দেশে করোনা সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ তুলনামূলক কম রয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও স্বস্তিদায়ক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় এসেছে। তাই আক্রান্তদের মধ্যে শারীরিক জটিলতাও কম। আইসিইউতে ভর্তি অধিকাংশ রোগীই টিকা নেননি। তাই মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণ প্রতিনিয়ত বাড়লেও রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হলেও চিন্তিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকা মহানগরে করোনা চিকিৎসা দেওয়া হয় ১৫টি সরকারি হাসপাতালে। এগুলোয় ৩ হাজার ৪৪টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে ২ হাজার ৯৩৬টি শয্যা খালি রয়েছে। ৩৬১টি আইসিইউর মধ্যে ৩৩২টি শয্যা খালি রয়েছে। সারাদেশে ১২ হাজার ৯৮৮টি শয্যার মধ্যে ১২ হাজার ৬৭৮ শয্যা খালি রয়েছে। সারাদেশে ১ হাজার ১৮৫টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ১ হাজার ১৩৫টি শয্যা বর্তমানে খালি রয়েছে।

দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৭২৮টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১ হাজার ৬৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১২ শতাংশের ঘরে।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ১৬ জুন প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এ নিয়ে টানা ১১ দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকল। আর তিন দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই চতুর্থ ঢেউ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নতুন শনাক্তের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জন ঢাকা জেলার। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাবে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ১৩৪০ জনে।

এদিকে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল রাজধানীর ডিএনসিসি কভিড হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় কোনো রোগী ভর্তি নেই। এক হাজারের বেশি শয্যার হাসপাতালটিতে এখন মাত্র ১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের সবাই আইসিইউতে। হাসপাতালটিতে এইচডিইউ ২৮৮টি শয্যার মধ্যে বর্তমানে ২৫১ খালি রয়েছে। টানা চার সপ্তাহ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালে চাপ কম।

ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিকুর রহমান বলেন, এখন কোভিডের যে পরিস্থিতি, বয়স্ক রোগীরাই বেশি আসেন। কিংবা কভিডের সঙ্গে যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি, হাইপারটেনশন আছে এমন রোগীরাই বেশি ভর্তি হচ্ছেন। বাকিরা বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নতুন নির্দেশনা এসেছে। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে। তবে এই ঢেউ আগের মতো এতটা মারাত্মক হবে না। কারণ হিসেবে বলছেন, এরই মধ্যে মানুষের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ভ্যাকসিন কভারেজও ভালো। তিনি বলেন, ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের সময় যে অবস্থা ছিল এখন আমাদের দেশ সেই অবস্থায় নেই। তবে গুরুত্বের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, করোনার সংক্রমণ বাড়ছে কিন্তু তা জটিল অবস্থায় যায়নি। সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের ৭৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখন দুই জোড টিকার আওতায়। ফলে সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির হার অনেক কম। আক্রান্তরা সাধারণ কিছু লক্ষণ নিয়ে বাসায় অবস্থান করেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ইদানীং করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। আমরা আতঙ্কিত না হলেও চিন্তিত। একই সঙ্গে সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। এখন বেশি বেশি করোনা পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। এই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে।