দিনের শুরুটা ছিল রোদঝলমলে, তবে দুপুর ১২টার দিকে ধীরে ধীরে কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও পড়তে শুরু করে। অবশ্য তা কোনো চাঞ্চল্য তৈরি করে না ফেরিঘাটে। কারণ কোনো যাত্রীই যে নেই সেখানে। বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া কামালের নামাঙ্কিত দুটি ফেরি যেন অলস সময় কাটাচ্ছে। সারাদিনে একবারও তাদের সচল হতে হয়নি। এতদিনের চিরচেনা দৃশ্য- প্রচুর মানুষের ভিড়, ছোটাছুটি সব যেন রাতারাতি বদলে গেছে।

পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর দিনে গতকাল রোববার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া (শিমুলিয়া) ঘাটে দেখা যায় এমন চিত্র। অবশ্য শুধু ফেরিই নয়, স্পিডবোট ঘাটের চিত্রও প্রায় একই। শুধু লঞ্চঘাটে কিছু মানুষের ভিড় ছিল। তবে যাত্রী কমেছে তাদেরও। আর ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে যেন ভর করেছে আকাশের কালো মেঘ। কারণ ঘাটে মানুষ না থাকার প্রভাব পড়েছে তাদের ব্যবসায়।

শিমুলিয়া লঞ্চঘাটে চা-পান-সিগারেটের ছোট্ট দোকান 'এরশাদ স্টোর' চালান এরশাদ আলম। তিনি সমকালকে জানালেন, ঘাটে এখন যাত্রী নেই বললেই চলে। আগে দিনে গড়ে তিন হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হতো। অথচ গতকাল মোটে ৫০০ টাকা বিক্রি করেছেন। তাঁর আশপাশের দোকানিরাও প্রায় একইরকম তথ্য জানালেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান সমকালকে বলেন, ফেরি বন্ধের ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সে দিকেই যাবে। আরও কয়েকটা দিন দেখে তারপর ফেরি সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

তিনি জানান, শিমুলিয়া ঘাট থেকে রোকেয়া ও সুফিয়াসহ ছয়টি ফেরি চলাচল করত। তবে গতকাল একটিও চলেনি। ফেরির টিকিট বুকিং কাউন্টারে কর্মরত রাকিব মুন্সী জানান, সারাদিনে কোনো টিকিটই বিক্রি হয়নি। ফলে কোনো ফেরি এখান থেকে ছাড়েনি।

স্পিডবোট ঘাটে গিয়ে দেখা গেল, অপেক্ষমাণ কোনো যাত্রী নেই। ঘাটে বাঁধা আছে সারি সারি স্পিডবোট। ঘাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, প্রতিদিন শতাধিক বোট চলত। প্রতি বোটে ১২ জন করে যাত্রী বহন করা হতো। কিন্তু আজ সারাদিনে চলেছে মোটে ৮-১০টি বোট। তাও প্রত্যেকবার ১২ জন করে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী দিনগুলোয় যাত্রী আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্য লঞ্চঘাটে যেতেই দেখা গেল, তীরে এসে ভিড়ছে এমভি প্রিন্স অফ পদ্মা-৩। যাত্রীরা সবাই নেমে যাওয়ার পর কথা হলো লঞ্চটির কর্মী জাকারিয়া শেখের সঙ্গে। তিনি জানালেন, প্রায় ১০০ যাত্রী নিয়ে এসেছেন। এর আগে তাঁরা প্রতি ট্রিপে ১৫০-২০০ যাত্রী বহন করতেন। তাছাড়া দিনে অন্তত তিনটি ট্রিপ দিতেন তাঁরা। যাত্রী কম থাকায় গতকাল দুপুর ২টা পর্যন্ত মোটে একটি ট্রিপ দিতে পেরেছেন। দিনের বাকি সময়ও আর ট্রিপ দিতে পারার সম্ভাবনা নেই।

এমভি আরিফের যাত্রী জামাল উদ্দিন জানালেন, মাঝিরকান্দি ঘাট থেকে উঠেছেন তিনি। তিনিসহ আরও কয়েকজন যাত্রী বাসে পদ্মা সেতু হয়েই আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাসের সংখ্যা কম থাকায় সিট পাননি।

এদিকে ঘাট ঘিরে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁগুলোয় আগে ইলিশ মাছ ভাজা দিয়ে ভাত খাওয়ার জন্য প্রচুর মানুষের ভিড় লেগে থাকত। তবে গতকাল লোকজনের তেমন আনাগোনা ছিল না।

বিষয় : মাওয়া ঘাট শিমুলিয়া লঞ্চঘাট

মন্তব্য করুন