হাওরবাসী গত কয়েক দশকে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেনি। বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে কাঁচা ঘর-বাড়িসহ মালামাল। কয়েকদিন ধরে হাওরে বন্যার পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে মাটি সরে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ায় নতুন সংকটে পড়েছেন বন্যাদুর্গতরা।

হাওর-অধ্যুষিত উপজেলার বাসিন্দারা জানান, বন্যার উপচে পড়া পানি নামছে, ভাঙছে হাওরের গ্রাম-জনপদ। কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন এই পরিস্থিতি।

জেলার ইটনা, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও নিকলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির তোড়ে গাইল ভেঙে মাটি সরে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষার জন্য তৈরি পাইলিং ভেঙে সরে যাচ্ছে মাটি।

ইটনা উপজেলার পশ্চিম শিমুলবাগ, নয়াপাড়া, ইমামপাড়া, নয়া হাজারীবাগ, নয়াবাড়ি, আনন্দপাড়া, জেলেপাড়া, ঋষিপাড়া, মতিরহাটি, বাউলেরপোতা, বাজারহাটি, নন্দীহাটি, আয়রা মজলিশপুর আশ্রয়ণ কেন্দ্র, করতা, বাঁশকাই; মিঠামইন উপজেলার আটপাশা, কাটখাল, হাশিমপুর, সাহেবনগর, হোসেনপুর, বিশুরীকোনা, কার্তিরখলা, চমকপুর, বগাদিয়া, হাতকুবলা, ঘাগড়া, কেওয়ারজোর, গোপদীঘি, ঢাকী, কাঞ্চনপুর এবং নিকলী উপজেলার ছাতিরচর, সিংপুর শহরমুলসহ বেশকিছু গ্রাম ঘুরে দেখা এই ভাঙন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

ইটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল ইসলাম জানান, এবার হাওরে ভয়াবহ বন্যার পানি নামতে শুরু করায় মাটি ও বাঁশের প্রতিরোধ দেয়াল ভেঙে হাওরের বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি নামতে শুরু করায় নতুন করে সংকটে পড়েছেন হাওরের মানুষ।

ইটনার ইউএনও নাফিসা আক্তার জানান, এবার ভাঙন পরিস্থিতি খারাপ। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা ও কাবিখা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

মিঠামইনের ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পানি নামার পর শুষ্ক মৌসুমে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় মাটি ভরাট করে গ্রামগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান।

এদিকে নিকলীর ইউএনও আবু হাসান জানান, নিকলীর ছাতিরচর, সিংপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের বন্যার পানি দ্রুত নামতে শুরু করায় ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ পর্যন্ত গ্রামগুলোতে ১২ হাজার জিআই ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে ভাঙন ঠেকাতে। আরও ১৫ হাজার জিআই ব্যাগ সরবরাহ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমানের ভাষ্য, সোমবার পর্যন্ত কালনী-কুশিয়ারার পানি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৫.০৫ সেন্টিমিটার, ধনু বৌলাই নদীর পানি ৫.০০ সেন্টিমিটার, মেঘনার পানি ৬.০০ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১১.৫২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির টান বেশি থাকায় দুর্বল গ্রামগুলো ভাঙছে। ইতোমধ্যে ভাঙন এলাকায় ১৫ হাজার বালুর বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ১৫ হাজার বস্তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।