লক্ষ্মীপুর সদরের বসুদৌহিতা এলাকায় নির্মাণশ্রমিক আব্দুর রব ওরফে রাসেল হত্যা মামলায় বাহার উদ্দিন নামে এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাহার উদ্দিন সদর উপজেলার বড়বল্লভপুর এলাকার মো. জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি রাতে রাসেলকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন সন্ত্রাসীরা। এর ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রায়ের সময় আসামি বাহার উদ্দিন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও মামলা সূত্র জানা গেছে, সদর উপজেলার বড়বল্লভপুর এলাকায় ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আব্দুর রব ওরফে রাসেল বাড়ি থেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য বের হন। বসুদৌহিতা এলাকায় পৌঁছালে বাহার উদ্দিনের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ৮/৯ জন যুবক তার গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে রাসেলকে মৃত ভেবে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।

পরদিন ভোরে রাসেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন স্থানীয়রা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী পরে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর মারা যান রাসেল।

এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি বাহার উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত নামা আরও ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের মা আমেনা বেগম।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট বাহার উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় সাড়ে ৮ বছর পর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।