বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো বলে সংসদে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে গুয়ানতানামো বে’র মতো কারাগার নেই। এখানে মা বাবার কাছ থেকে শিশুদের বছরের পর বছর আলাদা করে রাখা হয় না। 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৭ বছরে পুলিশের গুলিতে ৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। 

সোমবার সংসদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।  

পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সংবাদ উদ্ধৃত করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্বের সব পত্রপত্রিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রশংসা করছে। কিন্তু বিএনপি অভিনন্দন জানাতে পারেনি। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ প্রধানন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন; কিন্তু অভিনন্দন জানাননি। পদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপির গায়ে জ্বালা ধরে গেছে। এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে কোনো কথা নেই। 

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট বল্টু খুলেছে সে আগে ছাত্রদল করত।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের সঙ্গে তুলনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯১০ সালে কাজ শুরু হয়ে ১৯১৫ সালে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। স্বর্ণের মূল্যমান ধরে এখন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ করতে হলে ব্যয় হতো ৫৮ হাজার কোটি টাকা। আর পদ্মা সেতু করতে লাগত এক লাখ হাজার কোটি টাকা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডের চেয়ে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কম।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, টিআইবি, সিপিডিসহ কয়েকটি সংস্থা এবং বিএনপি সবসময় বলে বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়, বাজেট গরীবের কল্যাণে আসবে না। গত ১০–১২ বছর ধরে তারা একই কথা বলে আসছে। কিন্তু প্রতিবছরই বাজেট বাস্তবায়নের হার ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ। এখন দারিদ্রের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, মাথাপিছু আয় ৬০০ ডলার থেকে ২ হাজার ৮২৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এভাবেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।