গাইবান্ধায় বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা। ইদানিং শহরে বেড়ে গেছে এসব মোটরসাইকেল। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে ওইসব দায়িত্ব পালন করেন। এমতাবস্থায় বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচতে অনেকে তাদের মোটরসাইকেলটিকে ব্যাটারিচালিত হিসেবে রূপান্তর করিয়ে নিচ্ছেন বলে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চালকরা জানান।

গাইবান্ধায় ইঞ্জিনচালিত মোটরসাইকেল ব্যাটারিচালিত হিসেবে রূপান্তর করিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য শহর ও শহর-সংলগ্ন একাধিক গ্যারেজে করা হচ্ছে এসব রূপান্তর করার কার্যক্রম। আর ‘পুলিশি ঝামেলা’ এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দে চলাচল করছে শহর-বন্দরের রাস্তাঘাট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপান্তরিত ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের এক চালক বলেন, মোটরসাইকেলটি ইঞ্জিনের স্থানে ব্যাটারি লাগিয়ে চালাচ্ছি। নম্বরবিহীন পুরাতন মোটরসাইকেল কিনেছি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে। আর ১০ হাজার টাকা খরচ করে ব্যাটারিচালিত হিসেবে রূপান্তর করিয়ে নিয়েছি। মোট ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মোটরসাইকেলটি কোনো বাধাছাড়াই রাস্তায় চলাচল করছে। এতে আমার পেট্রোল-মবিল খরচ বেঁচে যাচ্ছে। শুধু বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে সামান্য চার্জ দিলেই চালানো যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক চালক (পুস্তক ব্যবসায়ী) বলেন, কোনো ঝামেলা নেই। পুরাতন একটি মোটরসাইকেল কিনে তাতে ব্যাটারি লাগিয়ে চালাচ্ছি। বাড়ি থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সাংসারিক বিভিন্ন কাজকর্ম করি এই সাইকেল দিয়েই। কখনই পুলিশি কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি তাকে। তেলচালিত মোটরসাইকেল চালাতে গেলে হেলমেট, গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু ব্যাটারিচালিত হওয়ায় কোনো প্রকার ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয় না।  

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন গাইবান্ধা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শফিউল ইসলাম বলেন, আইন ভঙ্গ করার প্রবণতার অংশ হিসেবে লোকজন তাদের মোটরসাইকেল ব্যাটারিচালিত হিসেবে রুপান্তরিত করছে। এসব মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে কোনো প্রকার হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র থাকার প্রয়োজন নেই, যা অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়। অনেক ক্ষেত্রে নম্বর প্লেটবিহীন, চোরাই এ সব যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এ ব্যাপারে বিআরটিএ গাইবান্ধার পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওইসব ব্যাটারিচালিত রূপান্তরিত অবৈধ যানবাহন রাস্তায় চলাচল নিষেধ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা ট্রাফিক ইনচার্জ (প্রশাসন) মো. নুর হোসেন বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত কোনো নির্দেশনা নেই। তবে মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে ওইসব গাড়ি চোরাই কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।