মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে আগামী ৩০ জুন নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হতে পারে। বাড়তে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সুদহার। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোমবারের বৈঠকে চার ডেপুটি গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরই মধ্যে গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি উঠেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এরকম প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছর মূল্যস্ফীতি সরকার নির্ধারিত মাত্রায় সীমিত রাখা চ্যালেঞ্জ হবে বলে গতকালের বৈঠকে কেউ-কেউ মত দিয়েছেন।

জানা গেছে, বর্তমান বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী রেপোর সুদহার আরও বাড়ানো হতে পারে। সম্প্রতি রেপোর সুদ বেসিস পয়েন্ট ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া মুদ্রনীতি প্রণয়নের দিন সব ধরনের ঋণে ৯ শতাংশ সুদহারের যে উর্ধ্বসীমা রয়েছে তা তুলে দেওয়ার ঘোষণা থাকতে পারে। তবে একেবারে বাজারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে নতুন করে একটি সীমা দেওয়া হতে পারে।

চলতি অর্থবছরের মুদ্রনীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয় ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত এপ্রিল পর্যন্ত ঋণ বেড়েছে ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এই ঋণ প্রবৃদ্ধির একটি অংশ হয়েছে আমদানিমূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে।

ফলে আগামী অর্থবছরের জন্যও এরকম প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হতে পারে। এক্ষেত্রে গুণগত মানের ঋণ বাড়াতে তদারকি ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হবে। এছাড়া সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে তা ঠিক সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।