চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নির্বিচারে চলছে পাহাড় কাটা। ভিটাবাড়ি বা ডোবা ভরাটের জন্য ও ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি। ওই সব স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য বাড়ি। তবে পাহাড়ে বসবাসকারী বা মাটি সংগ্রহকারীরা কেউই জড়িত নন পাহাড় কাটায়। স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক সিন্ডিকেট মাটি কেটে বিক্রি করছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পেও এসব মাটি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কাটা স্থানে ও পাহাড়ের গায়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসত গড়েছেন নানা কারণে আশ্রয় হারানো অসহায় মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর, ইসলামপুর, হোছনাবাদ, পারুয়া, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ও লালানগর ইউনিয়নে বেশি পাহাড় কাটা হচ্ছে। রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নেই রয়েছে শতাধিক ইটভাটা। এতে মাটি সরবরাহের জন্য কাটা হচ্ছে পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়। চন্দ্রঘোনা, সরফভাটা, বেতাগী ও পোমরা ইউনিয়নেও চলছে পাহাড় কাটা।

বছরের পর বছর এভাবে নির্বিচারে পাহাড় কাটায় ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। চলতি বর্ষায় ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত পরিবার। জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে পাহাড়ধসে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ১৩ জুন। ওই দিন মগাইছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে দুই পরিবারের ২২ সদস্যের মৃত্যু হয়। পরে ১৬ জুন মোহাম্মদপুর এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে শিশুসহ মারা যান তিনজন। ওই বছরই পাহাড়ধসে মারা গেছেন অন্তত ৫০ জন।
চলতি বর্ষা মৌসুমেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এবার বর্ষার শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে মাইকিং করলেও তাতে তেমন সাড়া মেলেনি।

ইসলামপুরের সলিমপুর এলাকায় পাহাড়ে বসবাস করা আবদুস সালাম বলেন, পাঁচ-ছয় বছর আগে নদীভাঙনে তাঁর পৈতৃক ভিটা বিলীন হয়ে যায়। থাকার জায়গা না পেয়ে পাহাড়ে বসবাস শুরু করেছেন। অন্যত্র সরাতে হলে থাকার জায়গা দিতে হবে।

পৌরসভার আদিলপুর এলাকায় সেলিনা বেগম বলেন, কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে পাহাড়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার বললে চলে যেতে হবে। কিন্তু থাকবেন কোথায়- সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসন মাইকিং করেও পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরাতে পারছে না। উল্টো বসতি বেড়েই চলেছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্যোগী হয় প্রশাসন। কিছুদিন পর তা থেমে যায়।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা খশরুল আমিন বলেন, বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কায় মাইকিং করলেও কেউ শুনছে না। উচ্ছেদ করার পর ফের বসতি গড়ে তোলে। পাহাড় কাটার খবর পেয়ে অভিযানের আগেই জড়িতরা পালিয়ে যায়। যাদের আটক করা হয়, তারা মূলত শ্রমিক। জামিন নিয়ে ফিরে একই কাজ শুরু করে। লোকবলের অভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

ইউএনও আতাউল গণি ওসমানী বলেন, পৌর মেয়রসহ ইউপি চেয়ারম্যানদের মাইকিং করে সতর্ক করা ও নিরাপদ স্থানে সরানোর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।