ঢাকার আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে নানা ঘটনাপ্রবাহে আশরাফুল ইসলাম জিতু প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন উৎপলের সহপাঠী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। 

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মানববন্ধনে উৎপলের সহপাঠীদের একজন চবির রসায়ন বিভাগের প্রভাষক ড. ফনী ভূষণ বিশ্বাস বলেন, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক মেয়েকে উত্যক্ত করত জিতু। মেয়েটি কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি উৎপল সরকারকে বিষয়টি জানান। উৎপল জিতুকে ডেকে নিয়ে শাসন করেন। পরে ঘটনাক্রমে সেই ছাত্রীর সঙ্গে ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে উঠে জিতুর। 

পরে উৎপল ছাত্রীর পরিবারকে সতর্ক করে দিলে ছাত্রী জিতুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে ‘ক্ষুব্ধ হয়ে’ জিতু উৎপলকে হত্যা করে বলে অভিযোগ প্রভাষক ফনী ভূষণের।   

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে উৎপলের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন করেছে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহপাঠীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন উৎপল কুমার সরকার।

আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারকে বেদম প্রহারের পর থানায় ধরে নিয়েও ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুকে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে উৎপলের সহপাঠী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। 

মানববন্ধনে উৎপল সরকারের সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, গত শনিবার উৎপল সরকারকে বেদম প্রহারের পর দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাকে প্রভাবশালীদের চাপে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ আসে। 

সোমবার সকালে উৎপল মারা গেলে হত্যা মামলার মূল আসামি জিতুকে আর খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। 


এতে ক্ষোভ জানিয়ে চবির রসায়ন বিভাগের প্রভাষক ও উৎপল কুমারের বন্ধু ড. ফনী ভূষণ বিশ্বাস বলেন, ‘আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের হযরত আলী; যার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে আশরাফুল ইসলাম জিতু। সে শুধু উৎপলের মাথায় আঘাত করেনি তার পেটের ভিতরে স্টাম্প ঢুকিয়ে দেয়। আমরা এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের সকলেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়া মানে পুরো সমাজ লাঞ্ছিত হওয়া। শুধু আজকের মানববন্ধন নয় আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলের শাস্তি চাই এবং উৎপলের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করছি।’ 

ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড.অলক পাল বলেন, ' দেশের শিক্ষক সমাজ এই মূহুর্তে খুবই নিগৃহীত। এ বিষয়ে আমার একটা কথাই মাথায় আসছে এই, সেটা হল নিন্দা, নিন্দা, নিন্দা। এই শিক্ষকদের উপর আঘাত আগামী দিনে আমার উপরও আসতে পারে। আমাদের সবার উচিত রুখে দাঁড়ানো। ' 

মানববন্ধনে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ভুঁইয়া মো. মনোয়ার কবীর, প্রফেসর ভ. এনায়েত উল্ল্যাহ পাটোয়ারী, সহযোগী অধ্যাপক এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন, মো.বখতেয়ার উদ্দীন, তাসলিমা আক্তার, শারমিলা কবির সীমা ও উৎপলের সহপাঠীরা বক্তব্য রাখেন। 

গত ২৫ শে জুন শনিবার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন উৎপল। দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু সবার সামনে ক্রিকেট স্টাম্প হাতে নিয়ে উৎপলের মাথা ও পেটে আঘাত করতে থাকে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু কেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় এবং পেটে অস্ত্রোপচার করা হয়। ২৭ জুন ভোর সাড়ে ৫ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান উৎপল। 

অভিযুক্ত জিতু আশুলিয়ার একটি কিশোর গ্যাঙের নেতৃত্ব দিত বলেও জানা গেছে।