সুনামগঞ্জের ছাতক ও উজানের মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে গেল ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় সুরমা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। নদীর পানি টইটুম্বুর অবস্থায় থাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার বৃষ্টি সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে স্থানীয়রা ফোন দিয়ে জানতে চান পানি আবারও আসবে কি না, আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করে কি না?

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে জানান, ২৪ ঘণ্টায় উজানের ভারতের মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে ২০০ মিলিমিটার এবং আমাদের সুনামগঞ্জের ছাতকে ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আবহাওয়ার ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে যাবার কোনো বার্তা জানানো হয়নি। তিনি জানান, নদীর পানি এখনো টইটুম্বুর রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানি দ্রুত লোকালয়ে চলে আসতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বশীল কেউ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ফোন না ধরায় এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, তিনি দোয়ারাবাজারে রয়েছেন, ফিরে ঢাকা আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে কথা বলবেন। ওখান থেকে বিপদ হওয়ার মতো ম্যাসেজ পেলে সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসকের ফেসবুক পেজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত করবেন।

প্রসঙ্গত, বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গেল ১৬ জুন সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকা বন্যাকবলিত হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায় জেলার ৮০ ভাগেরও বেশি এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের তালা ভেঙে জীবন বাঁচিয়েছেন লাখো মানুষ। ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে ঘরে থাকা ধানচাল, গৃহপালিত পশু, জমিতে থাকা সবজি, পুকুরের মাছ সবই ভেসে গেছে। এখনো হাজারো মানুষের ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই, উঁচু এলাকা থেকে পানি কমলেও নিচু এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে আছে।