অবশেষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। নগরীর পতেঙ্গা ওয়ার্ড সম্মেলন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হতেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। ১৪ বছরে এ শাখায় প্রথম সম্মেলন আয়োজন করা হলেও বিষয়টি জানতেন না স্থানীয় এমপি। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলাকার সংসদ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দল পুনর্গঠনের নির্দেশনা দিলেও পতেঙ্গা ওয়ার্ডে তার ব্যত্যয় ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পতেঙ্গা ওয়ার্ডের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে দেখা যায়নি স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফকে। এ ছাড়া অভিযোগ উঠেছে কে, কার পক্ষের সমর্থক- তা দেখে দলের সদস্য ফরম বিতরণের।

এমপি লতিফ সমকালকে বলেন, পতেঙ্গা ওয়ার্ড আমার এলাকায় পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার দলীয়প্রধানের নির্দেশনা এখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমাকে দাওয়াত পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার সমর্থকদের সদস্য ফরমও দেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রকৃতপক্ষে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকায় দলের নেতাকর্মীদের আত্মতুষ্টি ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগছেন। এটা করা যাবে না। সর্বক্ষণ চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, দেশে-বিদেশে নানা চক্রান্তের জাল বোনা হচ্ছে। কোনো অপশক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ছালেহ আহমদের সভাপতিত্বে পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

ফরম বিতরণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে ছালেহ আহমদ বলেন, এমপি লতিফকে শ্রদ্ধা করি। সম্মেলন উপলক্ষে কোনো চিঠি না ছাপানোয় তাঁর মতো বড় নেতাকে মৌখিকভাবে দাওয়াত দেওয়া সমীচীন মনে করিনি।