চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০ মে। ধুমধাম করে সম্মেলন হলেও সেখানে কোনো কমিটি হয়নি। বঞ্চিতরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেন- এমন আশঙ্কায় সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্র থেকে কমিটি করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। কিন্তু এক মাস হতে চললেও কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা যায়নি। এরই মধ্যে পদ ভাগাভাগির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শুধু নগর যুবলীগ নয়, একই অবস্থা চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগেরও। এ দুই সাংগঠনিক জেলায় সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন, ২৯ মে হয় উত্তর জেলা যুবলীগের সম্মেলন এবং ৩০ মে অনুষ্ঠিত হয় মহানগর যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনের আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদ পেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

চট্টগ্রাম মহানগরে আওয়ামী লীগ দুটি বলয়ে বিভক্ত। একটি বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আরেক বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। গ্রুপটি 'মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রুপ' হিসেবেই বেশি পরিচিত। নগর আওয়ামী লীগের পাশাপাশি দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো এ দুই বলয়ে বিভক্ত। ফলে কোনো সংগঠন পুনর্গঠনের বিষয়টি সামনে এলেই অনুসারী ও পছন্দের পাত্রকে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাইয়ে দিতে দুই পক্ষ তোড়জোড় শুরু করে।

গত ৯ মার্চ নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নওফেল বলয়ের হিসেবে পরিচিত দেবাশীষ নাথ দেবু ও আজিজুর রহমান আজিজ। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে নাছির অনুসারীরা পেয়েছেন সহসভাপতি তিনজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ একজন এবং ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দুই জন।

সূত্র জানায়, নগর যুবলীগে নাছির বলয় থেকে মহানগর যুবলীগের সাবেক স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য দিদারুল আলম দিদার, হাসান মুরাদ বিপ্লব, জাবেদুল আলম সুমন, আবু মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, ওয়াহেদুল আলম শিমুলসহ আরও কয়েকজন সভাপতি ও সধারণ সম্পাদক পদে আবেদন করেছেন। কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুই গ্রুপে ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়া হলে সে ক্ষেত্রে নাছির বলয়ের নেতাকর্মীরা সভাপতি পদ চান। এ ক্ষেত্রে বর্তমান নগর যুবলীগের সদস্য দিদারুল আলম দিদারকে সভাপতি হিসেবে সমর্থন দিচ্ছেন তাঁরা।

সাবেক মেয়র নাছির সমর্থক হিসেবে দিদারুল আলম দিদার সমকালকে বলেন, 'আমি নগর যুবলীগের সভাপতি পদে বায়োডাটা জমা দিয়েছি। এই পদে বায়োডাটা জমা দেওয়া অনেকেই আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, আমি দায়িত্ব পেলে চট্টগ্রামে দলকে আমি এগিয়ে নিতে পারব।'

নওফেল বলয়ে যাঁরা নগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে চান, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- নগর যুবলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, যুবলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দীন, কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক, আসিফ মাহমুদ, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিসহ আরও কয়েকজনের নাম।

হাবিবুর রহমান তারেক সমকালকে বলেন, 'সুনামের সঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের রাজনীতি করছি। দল মূল্যায়ন করলে চট্টগ্রাম মহানগরে যুবলীগকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে চাই। এ জন্য আমি সুযোগ চাই। যুবলীগের হাইকমান্ডের ওপর আমার আস্থা রয়েছে। আর আমাদের নেতা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি তা মেনে নেব।'
অন্যদিকে, দুই বলয়ের মাঝে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করা কয়েকজন যুবলীগ নেতা রয়েছেন, যাঁরা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে নগর যুবলীগের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন যুবলীগ নেতা দেবাশীষ পাল দেবু। জাঁকজমকভাবে নগর যুবলীগের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। দলের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে চান তিনি। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল মান্নানের ছেলে ও নগর যুবলীগের সহসভাপতি দিদারুল আলম দিদার সভাপতি হতে চান।

দেবাশীষ পাল দেবু সমকালকে বলেন, 'যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশে আমি চট্টগ্রাম মহানগরে দলের বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছি। দলকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছি। দলের জন্য আমার অবদান হাইকমান্ড অবগত। ফলে আমার এসব কাজ দল নিশ্চয় মূল্যায়ন করবে।'

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা জানান, যুবলীগের কমিটি গঠনে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে সংসদ সদস্যদেরও। নগর যুবলীগের কমিটিতে স্থান করে দিতে চট্টগ্রাম মহনগরের আওতাধীন সংসদীয় এলাকার সংসদ সদস্যদের একজন করে নাম দিতে অনুরোধ করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। কয়েকজন সংসদ সদস্য এরই মধ্যে নামও জমা দিয়েছেন।