প্রকৌশলী মো. আলমগীর চৌধুরী রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। তাঁর নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক হলেও শর্ত ভেঙে ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা দেওয়া হয়েছে। শুধু ঈদুল আজহা নয়, ঈদুল ফিতরেরও উৎসব ভাতা বকেয়া হিসেবে পেয়েছেন তিনি। আর্থিক বিধি অনুযায়ী কোনো চাকরিজীবীকে বকেয়া ভাতা দেওয়ার সুযোগ নেই। তার পরও দুই ঈদের উৎসব ভাতা হিসেবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা রেজিস্ট্রারকে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত রোববার জনতা ব্যাংকের রংপুরের লালবাগ বাজার শাখায় পাঠানো উৎসব ভাতার চালান (ইনভয়েস) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই চালানে সই করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ। রেজিস্ট্রারকে বকেয়াসহ ওই ভাতা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরের বেতন, বিল ও পেনশন শাখা।
জানা যায়, সার্চ কমিটির সুপারিশে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৮৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৫ সালে অবসরে যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর চৌধুরীকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ জানুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদের সই করা রেজিস্ট্রারের নিয়োগপত্রের ২ নম্বর শর্তে উল্লেখ রয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০/-
গ্রেড-৩-এর সর্বশেষ ধাপ ৭৪,৪০০ টাকা মূল বেতন এবং বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের ৪০%, মোবাইল ফোন বিল ১৫০০ টাকাসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে মাসিক সাকল্যে বেতন ১,০৫,৬০৬ টাকা পাবেন। এ ছাড়া অন্য কোনো ভাতা পাবেন না বলে শর্তে উল্লেখ করা হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন আলমগীর চৌধুরী।

ব্যাংকে পাঠানো উৎসব ভাতার চালানে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার আলমগীর চৌধুরীকে ঈদুল ফিতরের বকেয়াসহ দুটি ভাতা বাবদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়া হয়েছে যা তাঁর নিয়োগপত্রের ২ নম্বর শর্তের পুরোপুরি লঙ্ঘন। তবে নিয়োগের শর্ত ভেঙে অনিয়মের মাধ্যমে বকেয়াসহ উৎসব ভাতা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আলমগীর চৌধুরী। তিনি বলেন, উপাচার্যের প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে এটি দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিয়ামক দপ্তরের গত ১৫ মার্চের এক অফিস আদেশে দেখা যায়, আলমগীর চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পেনশন হিসেবে চিকিৎসা ভাতা ২৫০০ টাকা, নববর্ষ ভাতা ৫৭৬১ টাকা আর দুটি উৎসব ভাতা ২৮ হাজার ৮০৭ টাকা নিয়ে থাকেন।

এ উৎসব ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনাও মানা হয়নি। ইউজিসির অর্থ পরিচালক মো. শাহ আলমের সই করা গত ২৪ মের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা কর্মকর্তারা যে প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরের পর পেনশন নিচ্ছেন, সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই বার্ষিক উৎসব ও নববর্ষ ভাতা নেবেন। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ভাতা দেওয়ার সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে ইউজিসির অর্থ পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, চুক্তিভিক্তিক নিয়োগে কোনোভাবেই উৎসব ভাতা পাবেন না। এটা যদি করা হয়, সেটা বেআইনি এবং বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যই এর আগে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা মোস্তফা কামালের উৎসব ভাতা বন্ধ করেছিলেন।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে তাঁর দপ্তরে গেলে তিনি আজ (মঙ্গলবার) কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।