খুলনার তেরখাদা উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বিশালাকৃতির একটি গরু। এর মালিক গরুটির নাম দিয়েছেন ‘চিতা পাহাড়’। আসন্ন ঈদের আগে ১০ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করতে চান তিনি। ইতোমধ্যে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে ‘চিতা পাহাড়’ নিয়ে। 

তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের খামারি কায়নাথ শিকদার জানান, চিতা পাহাড়ের বয়স প্রায় পাঁচ বছর এবং এটি ৯ ফুট লম্বা। ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের গরুটির ওজন হবে প্রায় ৩৬ মণ। ইতোমধ্যে গরুটির ছয়টি দাঁত উঠেছে। এ ধরনের গরু আট দাঁত পর্যন্ত হয়ে থাকে। তার খামারে বিক্রি করার উপযোগী যে পাঁচটি গরু আছে তার মধ্যে ‘চিতা পাহাড়’ সবচেয়ে বড় গরু। 

গরুটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মোটাতাজা করা হয়েছে।  

তিনি জানান, গরুটি তিনি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান। হাটে নেওয়ার ইচ্ছা নেই, বাড়ি থেকেই বিক্রি করার ইচ্ছা। মাঝেমধ্যে ক্রেতা এসে গরুটি দেখে যাচ্ছে। গত বছর চট্টগ্রামের এক ব্যাপারী এসে গরুটি দেখে ছয় লাখ টাকা দাম বলেছিলেন। তখন তিনি বিক্রি করেননি। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন লোক প্রতিদিনই গরুটি দেখতে  আসে।

কায়নাথ শিকদার জানান, তিনি গরুটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মোটাতাজা করেছেন। কোনো রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেননি। প্রতিদিন ঘাস, খড়, খৈল, কুড়া, ভুসি, জব প্রভৃতি খাওয়ান। গরুটিকে সন্তানের মতো করে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করেছেন।

গরুর নাম ‘চিতা পাহাড়’ কেন রেখেছেন- এ প্রশ্নের উত্তরে খামারি কায়নাথ শিকদার বলেন, এই ষাড়টিকে যখন মাঠে নেন তখন অন্য ষাড়ের সঙ্গে লড়াই হয়। কোনো ষাড়ই এর সঙ্গে লড়াইয়ে টিকতে পারে না। এছাড়া ষাড়টির উচ্চতাও অনেক। সে কারণে তিনি নাম রেখেছেন ‘চিতা পাহাড়’। 

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে ‘চিতা পাহাড়’ নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের ধারণা এটি খুলনা জেলার সবচেয়ে বড় গরু।