টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে লালমনিরহাটে আবারও ধরলা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার সকাল ৬টার দিকে শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ধরলার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা দুপুর ১২টায় বৃদ্বি পেয়ে ২৮ সেন্টিমিটারে গিয়ে দাঁড়ায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে ধরলা নদীর পানি বাড়তে থাকে। এতে করে ধরলা তীরবর্তী সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের বেশ কিছু চরাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় দুই হাজার পরিবার। ভারতে উৎপত্তি হয়ে মোগলহাট সীমান্ত হয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছে ধরলা নদী। তাই ধরলার প্রথম শিকার হয় মোগলহাট ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের চর ফলিমারী এলাকার পানিবন্দি মানুষজন গবাধি পশু নিয়ে মুজিব কেল্লায় আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় বাড়িঘর সরিয়ে অনেকেই উঁচু স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

চর ফলিমারী এলাকায় স্মৃতি রায় ক্রিস্টাল স্কাউট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকার জায়গা না পেয়ে ফরিদা বেগম তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে তারা অভুক্ত রয়েছেন। ঘরে রান্না করার মতো অবস্থা নেই। চারদিকে পানি। একই কথা জানান, আলাল উদ্দিন নামে অপর এক বানভাসি।

মোগলহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, তার ইউনিয়নের কর্ণপুর, চর ফলিমারী, চর খারুয়া, বনগ্রাম এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় দেড় হাজার পরিবার বন্দি হয়ে পড়েছে। চলতি মাসের বন্যার পানি না সরতেই দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার অশঙ্কা করছেন তিনি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, ধরলার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। ভয়ের কিছু নেই। আগে বরাদ্দ করা ত্রাণ বিতরন চলছে। নতুন করে তালিকা প্রনয়ন করা হলে আবারও ত্রাণ দেওয়া হবে।