বিশাল দেহের ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির নাম ‘লাল বাদশা’। চার বছর ধরে ষাঁড়টি লালন পালন করছেন খামারি গোলাম মোস্তফা। আসন্ন  ঈদুল আজহায় কোরবানির হাটে ষাঁড়টি বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তার দাবি, গরুটির ওজন হবে অন্তত ২৫ মণ। বিক্রির জন্য তিনি ষাঁড়টির দাম হাঁকছেন ২০ লাখ টাকা।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বুড়াইল গ্রামের গোলাম মোস্তফার খামারে দেখা মিলবে 'লাল বাদশা'র। খামারি গোলাম মোস্তফা জানান, 'লাল বাদশা' বেশ শান্ত স্বভাবের। কাউকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে না। তিন বেলায় ১৪-১৫ কেজি স্বাভাবিক সুষম খাবারের পাশাপাশি নাশতা হিসেবে প্রাণিটিকে আপেল, কলা, কমলাসহ নানা ধরনের ফলমূল দিতে হয়। প্রতিদিন খাবারে জন্য লাল বাদশার পিছনে তার ব্যয় হয় এক হাজার টাকা।

তিনি আরও জানান,'লাল বাদশা' কে  ঘিরে অনেকদিন ধরে স্বপ্ন দেখছেন তিনি। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ষাঁড়টি একেবারেই প্রস্তত করা হয়েছে। গত বছর করোনা ভাইরাসের কারণে কোরবানির সময় বিধি নিষেধ থাকায় ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারেনি, তবে এবার ষাঁড়টি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশাবাদী তিনি।

খামারি গোলাম মোস্তফা জানান, লাল বাদশা ছাড়াও আরও ৬টি গরু রয়েছে তার। এর মধ্যে ৫টি গাভী ও ১টি ষাঁড় আছে। সবগুলোই কোরবানির হাটে বিক্রি করা হবে।

গোলাম মোস্তফা বলেন, চার বছরে লাল বাদশা এখন বিশাল দেহের অধিকারী হয়ে উঠেছে। আধুনিক পদ্ধতিতে গজ ফিতা দিয়ে ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ব্যাসার্ধ মেপে ধারণা করা হচ্ছে, ওজন অন্তত ২৫ মণ হবে। কোনও হাটে নিয়ে নয়, বাড়ি থেকেই তিনি ষাঁড়টি বিক্রির আশা করছেন বলে জানান।

গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মোছা. খাতিজা বেগম বলেন, চারটি বছর ধরে লাল বাদশাকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। মানুষ সন্তানকে যেমন আগলে রাখে, আমিও তেমনিভাবে রেখেছি। নিজের হাতে খাইয়েছি, গোসল করিয়েছি, যত্ন করেছি। এখন বিক্রি করে দিতে হবে ভেবে সন্তান হারানোর মতো কষ্ট পাচ্ছি।

এদিকে, এত বড় ষাঁড় দেখতে খামারি গোলাম হোসেনের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেকেই। গরু দেখতে আসা ওমর ফারুক রনি ও আতোয়ার রহমান জানান, এখানে বিশাল ষাঁড় আছে শুনে দেখতে এসেছেন। এত বড় ষাঁড় তারা আগে দেখেননি বলেও জানান।

ফুলছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, গোলাম মোস্তফার ষাঁড় পালনের বিষয়টি জানি। আশা করি, তিনি বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন।

তিনি আরও বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে আমরা খামারিদের সব সময় পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকি। অনলাইনে গরু বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে উপজেলার খামারিদের গরুর ছবি ও তথ্য আপলোড করা হচ্ছে।