সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কংক্রিটের আবরণ উঠে রড বের হয়ে গেছে বেশকিছু স্থানে। ভাঙাচোরা সড়কের গর্তে পড়ে বেশ কয়েকবার ফুটো হয়ে গেছে পণ্যবাহী ট্রাকের চাকা। এ অবস্থা খুলনা নদীবন্দরের স্কিড ঘাট সড়কের। রাতে বন্দরের অবস্থা আরও করুণ। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এই নদীবন্দরে নেই পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থা। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবতে থাকে। রাত বাড়ে আর তৈরি হয় ভূতুড়ে পরিবেশ। নানা সংকটে ঘাট নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের।

খুলনা নদীবন্দরের সবচেয়ে পুরোনো অংশ স্কিড কী ঘাট। ষাটের দশকে তৈরি এই ঘাট দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার সার, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাথর, সিমেন্ট কোম্পানির কাঁচামালসহ মোংলা বন্দর দিয়ে আসা দেশের বিভিন্ন স্থানের পণ্য পরিবহন হয়। ঘাট ইজারা দিয়ে গত বছর নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ ৩১ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে। কিন্তু বন্দরের উন্নয়নে খরচ করেনি এক টাকাও।

সম্প্রতি ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা সড়কে হেলেদুলে চলছে পণ্যবাহী যান। ষাট বছরের পুরোনো এই নদীবন্দরে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। বন্দরে পণ্য ওঠানামা করার উন্মুক্ত অংশ এখনও কাঁচা। বৃষ্টিতে কাদাপানিতে নাকাল হতে হচ্ছে শ্রমিকদের। নির্মাণের সময় বন্দরে ২০০ থেকে ২৫০ টন ধারণক্ষমতার কার্গো আসত। তখন কার্গো বাঁধার জন্য ৪-৫টি বোলাড বা মড তৈরি করা হয়। বর্তমানে দেড় থেকে দুই হাজার টন ধারণক্ষমতার কার্গো আসে। বড় কার্গো বাঁধার উপায় নেই এই বন্দরে।

দেখা গেছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নদীবন্দরে আলোর ব্যবস্থা খুবই কম। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সরকারি খাদ্য পরিবহন ঘাটে কিছু বাতি থাকলেও তা সড়ক পর্যন্ত পৌঁছায় না। সন্ধ্যার পর ভাঙাচোরা অন্ধকার সড়কে চলাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। প্রায় দুই বছর আগে স্কিড ঘাটের ৩০ ফুট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। মেরামতের অভাবে সেই ভাঙন এখন ১৫০ ফুট এলাকায় ছড়িয়ে গেছে। ওই অংশ দিয়ে পণ্য ওঠানামা করা যায় না।
খুলনা নদীবন্দর দিয়ে সার পরিবহনে যুক্ত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ভাঙা সড়কে প্রায় ট্রাকের চাকা পাংচার হয়ে যায়। ভালো ট্রাক এই রোডে চলাচল করতে চায় না। বন্দরের চাতালের বেশকিছু অংশ কাঁচা হওয়ায় পণ্য লোড-আনলোডের সময় ভিজে যায়। তিনি বলেন, দেশে কোনো নদীবন্দরের চাতাল কাঁচা নেই। একমাত্র খুলনাই এর ব্যতিক্রম।

বন্দরে পণ্য পরিবহনে যুক্ত ঠিকাদার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অন্যান্য নদীবন্দরে দিনরাত কাজ হয়। কিন্তু আলোর অভাবে এখানে রাতে কাজ করা কষ্টকর। পণ্য লোড-আনলোডে সময় লাগে বেশি।
ঘাট ইজারাদার চৌধুরী মিনহাজ উজ জামান সজল সমকালকে বলেন, প্রতিবছর ঘাট থেকে ৩১ লাখ টাকার রাজস্ব, আরও ৬ লাখ টাকার ভ্যাট ও আয়কর আদায় করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ঘাট উন্নয়নে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। জরুরি ভিত্তিতে ঘাটের সড়ক মেরামত, বেশকিছু হাইমাস্ট লাইট স্থাপন, ঘাটের কাঁচা অংশ আরসিসি ঢালাই দেওয়া এবং ধসে যাওয়া সীমানা প্রাচীর দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক ও নদীবন্দর কর্মকর্তা আবদুল রাজ্জাক সমকালকে বলেন, পোর্ট রোড মেরামত, স্কিড ঘাট কী পয়েন্টের ধসে যাওয়া শিট পাইলিং মেরামত করতে গত মে মাসে প্রকৌশল বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সমস্যাও ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে।


বিষয় : খুলনা নদীবন্দর খানাখন্দে ভরা সড়ক

মন্তব্য করুন