অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসক অদিতি সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী প্রকৌশলী মানস মণ্ডলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা বলেছেন, এই মৃত্যুর পটভূমি তৈরি করেছেন অদিতির স্বামী। তিনি প্রায়ই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন, কালো ও মোটা বলে কটূক্তি করতেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজের শরীরে আগুন দেন ওই চিকিৎসক। তবে এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী।

সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার অদিতি সরকার বুধবার মারা যান। এর আগে ২৪ জুন রাজধানীর ওয়ারীর বাসায় দগ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নিহতের ভাই দেবাশীষ সরকার সমকালকে বলেন, আমার বোনকে মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য ও গায়ের রং নিয়ে বাজে মন্তব্য করতেন ভগ্নিপতি মানস। সাত মাস আগে দ্বিতীয় সন্তান ঋক জন্মের পর শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন অদিতি। প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা ভর করায় তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। এ সময় স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের উচিত ছিল, সহানুভূতিশীল হয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো, তাকে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে সহায়তা করা। তা না করে উল্টো তাঁর ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে।

প্রকৌশলী মানস মণ্ডল বলেন, অদিতির স্বজনরা মিথ্যাচার করছেন। তাঁকে আমি বিয়ের চার বছর আগ থেকে চিনতাম। এতদিন কোনো অভিযোগ ওঠেনি, এখন কেন কটূক্তি করব? স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো সমস্যা হয়েই থাকে। এটাও তেমনই মান-অভিমানের ব্যাপার; ঘটনার সময় আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তখন অদিতি বারবার ফোন করছিল। এতে তাঁর সঙ্গে একটু বিরক্তির সুরে কথা বলেছি। পরে সে অভিমান করে এমন কাণ্ড ঘটায়। মৃত্যুর আগে জবানবন্দিতে সে আত্মহত্যার কথা বললেও এটা আত্মহত্যা নয়। অদিতি মূলত ম্যাচ জ্বালিয়ে গায়ে আগুন দেওয়ার ভয় দেখাতে চেয়েছিল। তখন দুর্ঘটনাবসত আগুন ধরে যায়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আমি নিজেও আহত হই।