'ইলশে গুঁড়ির নাচন দেখে/ নাচছে ইলিশ মাছ'- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতায় এভাবেই উঠে এসেছে বর্ষার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ইলিশের উল্লাসের চিত্র। আসলেই কি এ বৃষ্টিতে ইলিশ নৃত্য করে? এখানে 'নৃত্য' মূলত প্রতীকী। বর্ষার বৃষ্টিতে নদনদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়ে। বরিশালসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে এখন বৃষ্টি। অঝর নয়। এই 'ইলশে গুঁড়ি' বৃষ্টিতেই শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার মৌসুম। মৎস্য অধিদপ্তর ঘোষণা করেছে ১ জুলাই (আজ) থেকে নদীতে ইলিশ ধরতে পারবেন জেলেরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা জানান, আগামী তিন মাস এ মৌসুম চলবে। বছরে মোট ইলিশের তিন ভাগের দুই ভাগই এ তিন মাসে আহরণ করা হয়। উপকূলের জেলেপাড়া ও ইলিশ মোকামগুলো এ সময়ে থাকে মুখর। মাছ ধরার জন্য জুনের মধ্যভাগ থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন জেলেরা। তবে সাগরে ইলিশ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২৩ জুলাই। তখন সাগর-নদী উভয় জায়গায়ই ইলিশ ধরা যাবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক আনিচুর রহমান তালুকদার সমকালকে বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে প্রতিবছর আশ্বিনের পূর্ণিমার আগে ও পরে মোট ২২ দিন (সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ) ইলিশ নিধন পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকে। ওই সময়ে প্রজনন হওয়া ইলিশের বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ নদনদীতে ইলিশ ধরায় বিভিন্ন মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

আনিচুর রহমান তালুকদার বলেন, এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা (১০ ইঞ্চির কম সাইজের ইলিশ) ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই সময়ে ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমের মধ্যে একটিতে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এবং অপর পাঁচটিতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা জানান, জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আজ শুক্রবার থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদনদীতে ইলিশ ধরায় কোনো বিধিনিষেধ থাকে না। বর্ষা মৌসুমের এ সময়েই নদনদীতে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে। তাই বছরের এ তিন মাস ইলিশ মৌসুম হিসেবে গণ্য হয়।

বরিশালের মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস সমকালকে বলেন, সাগরে বেশিরভাগ ইলিশের পেটে এখন ডিম। আগামী মাস থেকে ডিম ত্যাগ করতে নোনাপানি ছেড়ে ইলিশ মিঠাপানি, অর্থাৎ নদীর দিকে ছুটবে। তখনই নদনদীতে বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বর্তমানে অমাবস্যাকাল চলছে। এরই মধ্যে মোহনায় বিপুল সংখ্যক ইলিশ ধরা পড়ছে। এ কারণে কয়েক দিন ধরে বরিশাল নগরের মোকামে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। তবে সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে ইলিশ ধরা চলছে। ওই ইলিশই পোর্ট রোড মোকামে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একে মোহনার ইলিশ বলে প্রচার করছেন।