নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিত করার মামলায় গ্রেপ্তার চার জনের বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এ রিমান্ড কার্যকর হবে।

রোববার সদর আমলি আদালতে রিমান্ড শুনানী শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদা তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরা হলেন, অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার প্রধান দুই অভিযুক্ত অনার্স শিক্ষার্থী রহমত উল্লাহ রনি ও মোবাইল মেকার শাওন খান এবং রিমন ও মনিরুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদুর রহমান। এ মামলায় ১৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মির্জাপুর কলেজে সৃষ্ট ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে সদর থানার ওসি শওকত কবিরকে স্ট্যান্ডরিলিজ বা তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখেন, প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম। এ পোস্ট দেয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসে রাহুল। এরপর তার বন্ধুরা পোস্টটি মুছে ফেলতে বললেও সে পোস্ট মোছেনি।

শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন।

এদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুদ্ধ জনতা ঘটনার দিন (১৮ জুন) বিকেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান।