নামের মিলের কারণে এক জাসেদুল হকের জায়গায় নিরপরাধ প্রবাসী জাসেদুল হক ১৩০ দিন কারাভোগ করেছেন। পুলিশ মাদক মামলায় দণ্ডিত জাসেদুলকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে মালেশিয়া ফেরতপ্রবাসী জাসেদুল হককে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু নির্দোষ জাসেদুলকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি আসামি নন; তার নামে কোনো মামলা নেই জানালেও পুলিশ তার কথার কোনো পাত্তা দেয়নি।

২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজারের রামুর রাজারকুল বাজার সিকদারপাড়া স্টেশনের ইত্যাদি স্টোর থেকে রামু থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের আদালত নগরের পাহাড়তলী থানার একটি মাদক মামলায় কক্সবাজার জেলার রামু থানার রাজাকুল সিকদারপাড়ার ওবায়দুল হকের ছেলে জাসেদুল হককে আদালত ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।

রোববার চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে নির্দোষ জাসেদুল হককে হাজির করা হয়। পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। গত ২৮ জুন কক্সবাজার কারাগারের জেলসুপার নেছার আলমকে জাসেদুল হক এ তথ্য জানান। ৩০ জুন কক্সবাজার কারাগারে জেলসুপার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

জাসেদুল হকের ভাই সাজেদুল হক বলেন, আমার ভাই জাসেদুল হক দীর্ঘদিন মালেশিয়ায়প্রবাসী ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রামু থানা পুলিশ জাসেদুল হককে দোকান থেকে গ্রেপ্তার করে। তখন বারবার বলেছি জাসেদুল হকের কোনো মামলা নেই। নথিপত্র সংগ্রহ করে হাইকোর্ট থেকে ২০ জুন জামিন পাই। আজ চট্টগ্রাম আদালত থেকে মুক্তি পেল ভাই।

আদালতের পেশকার ওমর ফুয়াদ বলেন, আদালত জেলখানার ছবিসম্বলিত রেজিস্টার খাতা সবকিছু পর্যালোচনা করে দেখেছেন বর্তমানে কারাগারে থাকা জামসেদুল হক প্রকৃত আসামি নন। তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পাহাড়তলী থানায় একটি মাদক মামলা হয়। নগরের পশ্চিম নাসিরাবাদ হালিশহর রোডের সামনে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ জাসেদুল হককে প্রেপ্তার করে পুলিশ। ২২ সেপ্টেম্বর আসামির পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়। পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়।