জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মহনা আক্তার নামের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে খুন করেছে মা বেদেনা বেগম। এ ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার ভাটারা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, কুটুরিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী সৌদিপ্রবাসী। তাঁর সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে ইয়াসিন (৫)। আর মেয়ে মহনা (৭) চন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই সন্তান মায়ের কাছে প্রায়ই বিভিন্ন আবদার করত। অনেক সময় বেদেনা বেগম (২৫) আবদার মেটাতেন। আবার কখনও রাগারাগি করতেন। সন্তানদের আবদার ছিল মাত্র ১০ টাকা।

রোববার সকালে মায়ের কাছে ১০ টাকা চেয়ে নেয় মহনা। কিছুক্ষণ পর ফের ১০ টাকা চেয়ে মায়ের পিছে পিছে ঘুরতে থাকে সে। এ কারণে রাগের বশবর্তী হয়ে বসতঘরে থাকা শিল দিয়ে মহনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিশুটি। তার মা লোকজনকে ডাকাডকি করলে প্রতিবেশীরা মহনাকে সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের দাদা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন তাঁর পুত্রবধূ। মাঝেমধ্যেই অস্বাভাবিক আচরণ করেন, যান আত্মহত্যা করতে। মেয়ের অত্যাচার সইতে না পেরেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

সরিষাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মজিদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।