ময়মনসিংহ নগরীতে যুবলীগ নেতা পারভেজ মঞ্জিল হত্যায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে ধরা পড়েন তাঁরা। রোববার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি দিলীপ।

পুলিশ জানায়, গন্দ্রপা এলাকার বাসিন্দা পারভেজ মঞ্জিল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে বছর দশেক আগে থেকে বিরোধ চলে আসছে প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও তাঁর চাচাতো ভাইদের। এর জের ধরে আবদুল নামে দিলীপের এক চাচাতো ভাই দশ বছর আগে খুন হন।

এই খুনের মামলা আদালতে বিচারাধীন। এর জেরে কয়েকবার দিলীপের টং দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। এই বিরোধের সঙ্গে যোগ হয় সম্প্রতি পারভেজের চাচাতো ভাই সিদ্দিককে গালমন্দ করার অভিযোগ। এ নিয়ে দিলীপের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় পারভেজের। একপর্যায়ে গত শুক্রবার রাতে পারভেজ বাড়ি ফেরার পথে ফের বাগবিতণ্ডায় জড়ালে ছুরিকাহত করা হয়। আহত পারভেজকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান।

নিহতের ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে শনিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এতে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার রাতেই গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের এক বাড়ি থেকে আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপ, তাঁর ভাই শহীদুল ইসলাম শহীদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাব্বির নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব-১৪।

বাদী বলেন, আগের হত্যাকাণ্ড তাঁদের চাচাতো ভাইদের সঙ্গে। আগের ঘটনার সঙ্গে এখনকার ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। দিলীপের কাছে তাঁর চাচাতো ভাইকে গালাগালের কারণ জিজ্ঞাসা করেছিল পারভেজ। এ নিয়ে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, দুই পরিবারের দীর্ঘ দিনের বিরোধ। এর জের ধরেই আগে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সব আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।