দেওয়ানগঞ্জ অঞ্চলের যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসনে নতুন ট্রেন চালু, চলমান ট্রেনে বগি বৃদ্ধির দাবি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। রেলের সামর্থ্যের অভাবে ক্রমেই বাড়ছে দুর্ভোগ।
ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের সবশেষ স্টেশন দেওয়ানগঞ্জ। এ উপজেলাসহ বকশীগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রাজীবপুর, রৌমারী, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি উপজেলার যাত্রীরা এ স্টেশন থেকে ময়মনসিংহ ও ঢাকায় যাতায়াত করেন। এ কারণে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি।
দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে প্রতিদিন ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ও তিস্তা এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকা যাতায়াত করে। দুটি ট্রেনের জন্য দেওয়ানগঞ্জ স্টেশনে আসন বরাদ্দ রয়েছে ২২০টি। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে ১১০টি ও তিস্তা এক্সপ্রেসে ১১০টি। আসনগুলোর টিকিট ৫০ শতাংশ স্টেশন কাউন্টারে এবং ৫০ শতাংশ অনলাইনে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কমিউটার ট্রেনও দেওয়ানগঞ্জ থেকে চলাচল করে থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা এক্সপ্রেসের আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ নতুন ট্রেন চালু এবং জামালপুর এক্সপ্রেস ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির চলাচল দেওয়ানগঞ্জ স্টেশন পর্যন্ত করার দাবি তাঁদের। বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি এখন ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি জামালপুর-ঢাকা রুটে চলাচল করছে।
পোল্যাকান্দি গ্রামের ট্রেনযাত্রী ফেরদৌস হাসানের ভাষ্য, এ অঞ্চল থেকে ঢাকা যাতায়াতে সড়কপথ সুবিধাজনক নয়। এ কারণে ঢাকাগামী যাত্রীরা ট্রেনের ওপর নির্ভর করেন। ট্রেনের আসন ও বগি বাড়ানোসহ নতুন ট্রেন চালু করা হলে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ হবে।
দেওয়ানগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহগামী লোকাল-২৫২ ট্রেনটি আন্তঃবিভাগীয় যাতায়াতে বড় ভূমিকা রাখত। ট্রেনটি প্রতিদিন বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যেত এবং ময়মনসিংহ থেকে প্রতিদিন ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসত। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেনটিতে যাত্রীর পাশাপাশি মালপত্র পরিবহন করা হতো। এ কারণে আন্তঃবিভাগীয় যাতায়াতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
পাথরেরচর এলাকার সাইফুল ইসলাম বাবু জানান, এ অঞ্চলে ট্রেনযাত্রীদের ভিড় সব সময় থাকে। যাত্রীর তুলনায় ট্রেন নগণ্য। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নতুন ট্রেন চালু ও চলমান ট্রেনের আসন সংখ্যা বাড়ানো দরকার।
উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের সবশেষ রেলস্টেশন দেওয়ানগঞ্জ। এ কারণে যাত্রীর চাপ অস্বাভাবিক। দ্রুত নতুন ট্রেন চালুর দাবি তার।
রেলওয়ের দেওয়ানগঞ্জ স্টেশন মাস্টার আবদুল বাতেন জানান, আসনের তুলনায় যাত্রীর চাপ থাকে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি। এ কারণে রেলমন্ত্রী বিজয় এক্সপ্রেস ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ স্টেশন থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থা করার এবং নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে দুর্ভোগ কমে যাবে বলে প্রত্যাশা তাঁর।