বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের ছোট আন্ধারমানিক গ্রামের দীপ্ত মৃধা। তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড় দীপ্ত স্থানীয় আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা দীপংকর মৃধা পেশায় ভ্যানচালক। অভাবের কারণে ছুটি পেলেই দীপ্ত বের হত বাবার ভ্যান নিয়ে।

সোমবার সকালেও বের হয়েছিল একটু বাড়তি আয়ের আশায়। কিন্তু দুই চোর কৌশলে চুরি করে নিয়ে গেছে দীপ্তর পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ভ্যানটি। তাই ভ্যানের জন্য পথে পথে কাঁদছে কিশোর দীপ্ত।

কাঁদতে কাঁদতে দীপ্ত বলে, ‘আমি আগে কখনো উপজেলার (কচুয়া) বাইরে যাইনি। আজকে সকালে বাড়ির সামনে থেকে দুই যাত্রী নিয়ে কচুয়া বাজারে আসি। সেখানে এক যাত্রী নেমে গেলেও অন্যজন আমাকে সাইনবোর্ড বাজারে নিয়ে আসে। সেখান থেকে আরও এক যাত্রী ওঠে। তারা আমাকে জোর করে বাগেরহাট নিয়ে আসে। বাগেরহাটে এনে শহরের মধ্যের পাইপের দোকানে নিয়ে যায়।’

‘সেখান থেকে আবার ফিরিয়ে এনে মিঠাপুকুর পাড়ে নিয়ে আসে। সেখান থেকে বলে যে ভ্যান এখানে রেখে পাইপ আনতে হবে। আমি পাইপ আনতে গেলে একজন ভ্যানের কাছে থাকে, অপরজন আমাকে নিয়ে পাইপের দোকানে যায়। সেখান থেকে আমাকে পাইপ দিয়ে ভ্যানের কাছে পাঠায়। এসে দেখি ভ্যান নেই। এখন আমি কী করব, বাবা আয়-ই বা করবে কী দিয়ে?’ যোগ করে দীপ্ত।

মিঠাপুকুর পাড় এলাকার একটি ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী তারক বৈরাগী বলেন, ‘ছেলেটাকে দেখি কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছে। আর ভ্যানের জন্য আহাজারি করছে। পরে আমরা ডেকে ওর কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে ওর বাবাকে ফোন করে জানিয়েছি।’

দীপ্তর পিতা দিপঙ্কর মৃধা দুপুরে বাগেরহাটে এসে সদর মডেল থানা এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ‘দু'বছর আগেও অন্য একটি ভ্যান চুরি হয়ে যায়। বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে চুরি যাওয়া সেই ভ্যানটিও আর পাওয়া যায়নি। তারপর অনেক কষ্টে সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে এই ভ্যানটি কিনেছিলাম। এই ভ্যানটাও চুরি হয়ে গেল। এখন তো পথে বসতে হবে।’

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল হক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই চোর চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।