ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গ্রাম্য পশুচিকিৎসক নজরুল ইসলাম তাঁর খামারে পালিত দুটি বিদেশি জাতের ষাঁড় নিয়ে বিপদে পড়েছেন। আকারে বড় হওয়ায় ষাঁড় দুটিকে তিনি বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে বাড়ি থেকে কিনে নিতেও কেউ আসছেন না।

মঙ্গলবরা সকালে নজরুল ইসলামের বীর ঘোষপালা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় লোকজনের ভিড়। সবাই তাঁর ষাঁড় দুটি দেখতে এসেছেন। কিন্তু তখনও ষাঁড় দুটিসহ অন্য পশুদের গোয়ালঘর থেকে বের করা হয়নি।

নজরুল ইসলাম জানান, তাঁর পালিত বিদেশি জাতের একটি গাভির বাছুর কালো ষাঁড়টির বয়স ৫ বছর। ওজন প্রায় ৩০ মণ। এটির দাম চাচ্ছি ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে সাদা ষাঁড়টির দাম চাচ্ছি ৭ লাখ টাকা। সাদাটির বয়স ৪ বছর এবং ওজন ২৫ মণ। তিনি নিজ হাতেই এদের লালনপালন করেছেন।

সাদা ষাঁড়টির ওজন ২৫ মণ।

‘কালো ষাঁড়টি আকারে তুলনামূলকভাবে একটু বড় হওয়ায় সেটির খাদ্যের জন্য প্রতিদিন ১২০০ টাকা এবং সাদাটির জন্য প্রতিদিন ১ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। তাদের খড়, মাষকলাইয়ের ভুসিসহ বুট ও ছোলা খাইয়েছেন বেশি। গরমে আরাম দিতে আবাসস্থলে লাগিয়েছেন বৈদ্যুতিক পাখা। ষাঁড় দুটিকে সারাবছর দিনে দু'বার এবং রাতে একবার করে গোসলও করিয়েছি।’ যোগ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম আরও জানান, গত বছর সাদা ষাঁড়টি বিক্রির উপযুক্ত না হওয়ায় শুধু কালোটি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। পাঁচ লাখ টাকা দাম উঠেছিল; কিন্তু আরেকটু বেশি দামে বিক্রির আশায় শেষে আর বিক্রি করতে পারেননি। এ বছর দুটি পশুই বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। লোকজন না থাকায় বড় আকারের দুটি পশুকে বাজারে নিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না তিনি।

‘কিন্তু বসে থাকলে তো ঈদের বাজার চলে যাবে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আগামী বৃহস্পতিবার বাড়ির কাছাকাছি বাঁশহাটী উচ্চবিদ্যালয় মাঠের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো ষাঁড়টি নিয়ে যাবেন। এর জন্য সব আয়োজনও করে রেখেছেন। কালো ষাঁড়টি বিক্রির পর সাদাটি বিক্রির চিন্তা করবেন। তবে কেউ বাড়ি থেকে কিনে নিতে চাইলেও তিনি বিক্রি করবেন বলে জানান।