মা আওয়ামী লীগ নেত্রী। তাঁর প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় গড়ে তুলেছেন মাদকের রমরমা কারবার। এ কাজে তাঁকে কেউ বাধা দিতে এলে তাঁর জন্যও আছে ব্যবস্থা। অফিস নামে পরিচিত টর্চার সেলে নিয়ে করা হয় অমানবিক নির্যাতন। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় তাবড় নেতার সঙ্গে ওঠাবসা থাকায় পুলিশ-প্রশাসন নিয়েও ভাবতে হয় না তাঁকে। তারপরও কয়েকবার গ্রেপ্তার হন, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যান। একবার সাজাও হয়, তবে বেশি দিন জেল খাটতে হয়নি। জামিনে বের হয়েই জড়িয়েছেন আগের কুকর্মে। 

আজ মঙ্গলবার তিনি আরও একবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও দ্রুতই তাঁর ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কুষ্টিয়া শহর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহানাজ সুলতানা বনি এবং আমিনুল ইসলাম বাবলু দম্পতির ছেলে জেড এম সম্রাট। তাঁর বাবা ধান-চালের ব্যবসা এবং মা রাজনীতি করলেও তিনি গড়ে তুলেছেন অস্ত্র ও মাদকের কারবার; টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের স্বর্গরাজ্য। প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে তাঁর আছে নিজস্ব বাহিনী। 'সম্রাট বাহিনী' দিয়ে তিনি এলাকায় চাঁদাবাজি এবং টর্চার সেলে লোকজনকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করেন। আজ তাঁর আস্তানা থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, আট রাউন্ড গুলি, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, গাঁজা, চারটি ওয়াকিটকি সেট ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ সময় সম্রাটের সঙ্গে তাঁর দুই সহযোগী ওসমান ও রাসেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বেশ কয়েকটি মামলা আছে।

আজ দুপুরে র‌্যাব ১২ কুষ্টিয়া কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর স্থানীয় কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান। তিনি জানান, সম্রাটের বাসা শহরের কমলাপুরে। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মজমপুর এলাকায় সম্রাটের অফিসে অভিযান চলে। তাঁর নের্টওয়ার্ক আছে পুরো জেলায়। তাঁকে পেছন থেকে যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করা হবে।

জানা গেছে, সম্রাট একবার শহর যুবলীগে পদ পেয়েছিলেন। নানা অপরাধে জড়ানোয় তাঁকে বহিস্কার করা হয়। ২০০৯ সালে সম্রাটকে প্রথম একটি রাইফেলসহ আটক করে পুলিশ। সেই মামলায় তাঁর ১০ বছর জেল হলেও কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে ফের অপরাধে জড়ান। তিনি ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার করেন। পাশাপাশি বিদেশ থেকে অস্ত্র এনে বিক্রি করেন। এরপর তাঁকে বেশ কয়েকবার অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যান।

সম্প্রতি সম্রাটের হত্যাচেষ্টার শিকার ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, 'এই সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালানোর পর পুলিশে অভিযোগ করেও বিচার পাইনি। এবার তাঁকে গ্রেপ্তার করায় র‌্যাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।' আরিফুলের মতো অনেক ভুক্তভোগী আছেন। নির্যাতনের শিকার কয়েকজন বলেন, সম্রাটকে কয় দিন আটকে রাখতে পারবে প্রশাসন? স্থানীয় নেতারাই তাঁকে বের করে আনবেন, ফের তাঁর অপকর্ম শুরু হবে।

সম্রাটের মা শাহানাজ বলেন, আমার ছেলে অপরাধে জড়িত, এটা সত্য। তাকে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা ব্যবহার করেন। হেরফের হলেই আবার তাকে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেন। আমি ওই নেতাদেরও বিচার চাই, যাঁরা আমার ছেলেকে ব্যবহার করে নানা অপকর্মের স্বর্গ গড়ে তুলেছেন।