করোনাকালে তখন চারদিকে হতাশা। একে একে বন্ধ হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাড়ছে বেকারত্ব। এমন প্রতিকূল সময়ে মাত্র ছয়টি গাভি নিয়ে পথচলা শুরু হয় 'আমিষ ফুডস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড'-এর। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের কুমারপাড়ায় এর অবস্থান। এর উদ্যোক্তা ওই গ্রামের স্বপ্নবান তিন তরুণ- মতিউর রহমান বিল্লাল, আবদুল আজিজ ও আবদুল আলিম। তিনজনই পেশায় প্রকৌশলী। তাঁদের খামারের সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক কোটি টাকায়।

১০ বিঘা জমিতে গড়া ওঠা এ খামারে বর্তমানে কাজ করছেন ৫৪ শ্রমিক। এলাকার তরুণদের আদর্শ হয়ে উঠেছে আমিষ ফুডস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। বর্তমানে ওই খামারে নিয়মিত দুধ দেয় এমন গাভির সংখ্যা ৪২টি। আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মোটাতাজা করা হয়েছে ১৬৫টি গরু ও ১৬টি দুম্বা।

খামারটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান বিল্লাল বলছিলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নটা তাঁরা দেখেছিলেন আরও আগে। তবে ২০১৯ সালে তিন বন্ধু মিলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগে যখন খামার শুরু করেন তখন বিশ্বজুড়ে করোনার চোখরাঙানি।
এমন প্রতিকূল অবস্থায়ও হাল ছাড়েননি তাঁরা। মতিউরের ভাষায়, 'আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ব্যতিক্রম কিছু করার। মানুষের কাছে খাঁটি দুধ ও পুষ্টিকর মাংস সরবরাহের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামারের পশুগুলোকে খাবার দিই। গরু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহার করি না।'

এবারের ঈদের জন্য প্রস্তুত গরুগুলোর দাম ৬৫ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। খামারের সবচেয়ে বড় গরু 'বাদশা'র দাম উঠেছে ৮ লাখ টাকা। তাঁদের খামারটি এখন শুধু দুধ-মাংস উৎপাদন করেই থেমে নেই; তৈরি করছে দুগ্ধজাতীয় খাবারও।

আড়াইহাজার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল দাসের মতে, এই তিন যুবক দেশের সমবয়সী অন্যদের জন্যও আদর্শ হতে পারেন। শিক্ষিত যুবকরা কৃষি খাতে প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এ খাতকে লাভজনক হিসেবে রূপান্তর করা সম্ভব।

মিলেছে স্বীকৃতিও :দেশের ডেইরি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিও পেয়েছে 'আমিষ ফুডস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড'। গত ১ জুন রাজধানী ঢাকার খামারবাড়ীতে ৩৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় 'ডেইরি আইকন-২০২১' পুরস্কার। দুধ ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি পুরস্কৃত হয়।