সাতক্ষীরার আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত কুন্দুড়িয়া-বাঁকড়া ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রিজটির মাঝখানের প্রায় চার থেকে পাঁচ হাত অংশ অনেকটা দেবে যায়। এতে এই ব্রিজ দিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয়রা জানায়, তিন মাস আগে খননের কারণে মরিচ্চাপ নদীর প্রস্থের তুলনায় ব্রীজটির দৈর্ঘ্য কম হয়ে যায়। এতে বেশ কিছু দিন ধরে ব্রিজটি কিছুটা দুর্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এরপরও নবনির্মিত এ ব্রিজের ওপর দিয়ে ছোট-বড়, হালকা ও ভারী সব ধরনের যান চলাচল করছিল।

স্থানীয়রা আরও জানায়, মাঝের অংশ দেবে এবং দুই পাশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্রিজটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, অগভীর ফাউন্ডেশন হওয়ার কারণেই ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। যেখানে নদী রয়েছে ১৮০ ফুট প্রশস্ত, সেখানে মাত্র ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ হলে কীভাবে থাকবে। এছাড়া ব্রিজের ফাউন্ডেশন এত উঁচুতে করা হয়েছে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া স্থানীয় কিছু ছেলে ব্রিজের নিচে খুঁচিয়ে মাটি ও বালি বের করার ফলে এ ঘটনা ঘটেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৫৪ লাখ চার হাজার ৬৫০ টাকা ব্যয় করে বক্স টাইপের এই ব্রিজটি নির্মাণ করেছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাইকগাছার মেসার্স জিএম হাসিব ট্রেডার্স কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। পাঁচ বছর পার না হতেই ব্রিজের মাঝ বরাবর অংশ দেবে গেল।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, নদীর চেয়ে ব্রিজ ছোট হলে সেখানে সেটি টিকে থাকা কঠিন। অগভীর ফাউন্ডেশনের নকশায় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ নদী খননের নকশা ব্রিজের তুলনায় অনেক গভীর। যারা ব্রিজটি নির্মাণ করেছেন, তাদের উচিত ছিল এ বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করা। এরপরও আমরা ব্রিজের অনেক দূর থেকে সরু করে খনন করেছি, যাতে ব্রিজটির ক্ষতি না হয়।