বিক্রি হোক আর না হোক পশুর হাটে গরু উঠিয়ে খুঁটিতে বাঁধলেই বিক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকা। উল্লাপাড়ায় কোরবানির পশুর হাটগুলোর চিত্র এটি। ইজারাদারদের বিরুদ্ধে এক গরু থেকে খুঁটিতে বাঁধার জন্য একবার এবং বিক্রির পর খাজনা আদায়-এভাবে দুইবার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

আর ইজারাদাররা বলছেন, গরু বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে বাঁশের খুঁটি পোতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অনেক ক্ষেত্রে গরু রাখার স্থানে উপরে কাপড় টানানোর জন্য যে ব্যয় হয় সেই  অর্থই নেওয়া হয় বিক্রেতাদের নিকট থেকে। 

উপজেলার কাশিনাথপুর গ্রামের গরুর খামারি আব্দুল আজিজ, পর্বত আলী, কানসোনা গ্রামের ময়নাল হক, বেতবাড়ী গ্রামের গরু বিক্রেতা আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন, তারা তাদের পালিত গরু কোরবানির হাটে বিক্রি করতে গিয়ে জনতা হাট, গ্যাস লাইন হাট, বোয়ালিয়া ও বড়হর হাটে গিয়ে খুঁটিতে গরু বাঁধা ফি বাবদ ৩০০-৪০০ টাকা করে দিয়েছেন। দুই হাটে গরু বিক্রি না করলেও তাদেরকে খুঁটিতে গরু বাঁধার মূল্য পরিশোধ করে হাট থেকে গরু ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। এ ছাড়া গরু বিক্রির পর ক্রেতাদের নিকট থেকে নির্ধারিত  খাজনাতো আদায় হয়ই। 

এই ব্যাপারে উল্লাপাড়ার বৃহত্তম বোয়ালিয়া গরুর হাটের ইজারাদার জহুরুল হাসান গরু বিক্রেতাদের উল্লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে জানান, গরু বিক্রেতাদের হাটে গরু নিরাপদ রাখার সুবিধার্থে হাট কমিটি বাঁশের খুঁটি পুতে গরু বাঁধার ব্যবস্থা করে দেন। আর এ কাজে অনেক অর্থ ব্যয় হয়। প্রকৃতপক্ষে সেই ব্যয় মেটানোর জন্যই গরু বিক্রেতাদের কাছ থেকে খুঁটিতে গরু বাঁধার মূল্য হিসেবে কিছু অর্থ আদায় করা হয়।    

এই বিষয়ে উল্লাপাড়ার জনতা হাটের ইজারাদার রায়হান আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, কোরবানির পশুর হাটে বিক্রেতাদের গরুগুলো সুসংরক্ষণের জন্য বাঁশের খুঁটির ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে রোদ থেকে গরুগুলোকে বাঁচানো জন্য উপরে চাঁদোয়া টানানো হয়। এসব ব্যবস্থার জন্য গরু বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।