অতিবৃষ্টি ও নগরবাসীর অসচেতনতাকে জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী করলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। 

মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

কয়েকদিনের তাপদাহের পর গত শনিবার মধ্য রাতে বৃষ্টিপাতের সময় ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এজন্য অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বন্যার পর নগরীর ছড়া-খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে সিসিকের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতায় অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় নগরীর বিপুল অংশ প্লাবিত হওয়ার পরও সিসিকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সেই সময় নগরীতে বন্যার জন্য সুরমা নদীর নাব্য সংকটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান মেয়র আরিফ। সর্বশেষ হাজার কোটি টাকা খরচের পরও নগরীতে জলাবদ্ধতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো ড্রেন পরিষ্কারে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেও জলাবদ্ধতার জন্য তিন বিষয়কে ‘ঢাল’ হিসেবে সামনে আনলেন মেয়র আরিফ। 

নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শনিবার রাতে স্বল্প সময়ে ভারি বর্ষণ, নগরীর সংলগ্ন দলদলি চা বাগানের টিলা ধসের পলিতে নগরীর ভেতরে ড্রেন ভরাট ও নগরবাসী পলিথিনসহ ময়লা-আবর্জনা অসচেতনভাবে যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। 

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সিসিক কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই স্ট্রাইকিং ফোর্স বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে মাঠে কাজ করবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় মেয়র-কাউন্সিলর, সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে থাকবেন।

এতদিন জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি করলেও শনিবার রাতের পরিস্থিতির পর এক্ষেত্রে ‘সমস্যা আছে’ বলেও স্বীকার করেন মেয়র আরিফ। 

তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে, তা স্বীকার করতে আমার কোনো অসুবিধা নাই। এবারে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ধারণা ছিল, দুই মাস পর বৃষ্টি শুরু হবে। নগরীর বঙ্গবীর রোডে যে জলাবদ্ধতা, তা আমাদের উন্নয়ন কাজ চলাকালীন আগাম বৃষ্টি চলে আসায় সৃষ্টি হয়েছে। এবারের বন্যায় দলদলি বাগানের টিলা ধসেছে। যার ফলে পলি এসে আমাদের ড্রেন ভরে গেছে। ছড়া-খাল বা ড্রেনের যে গভীরতা ছিল, একটানা বর্ষা মৌসুমে আমরা এগুলোতে কাজ করতে পারিনি। কারণ, বন্যা ছিল, বৃষ্টি ছিল।

পাশাপাশি নগরবাসীর অসচেতনতাকে কাঠগড়ায় তুলে মেয়র আরিফ বলেন, নাগরিকদের একটু সচেতনতার অভাব আছে। বাড়িতে যত আবর্জনা আছে, কাপড় থেকে শুরু করে লেপ-তোষক, সবই ড্রেনে ছেড়ে দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ড্রেন বা ছড়ার যে নাব্য, সেটিও লোপ পেয়েছে। 

বন্যার পর নগরীর ড্রেন পরিষ্কারে দায়িত্বহীনতার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মেয়র বলেন, আমাদের রাস্তাঘাট পরিষ্কার করি রাত ১২টার পরে। সেদিন (শনিবার) রাত ১১টা থেকে বৃষ্টি হয়। আমাদের কর্মীরা তখন কাজ শুরু করেনি। তখন পথচারীরা বা ব্যবসায়ী ভাইয়েরা যেসব পলিথিন রাস্তায় ফেলেছিলেন, সব গিয়ে ড্রেনের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দেয়। পানি তখন কাটতে (নামতে) পারেনি। একদিকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে ব্লকের কারণে পানি ড্রেন দিয়ে নামতে পারেনি। জলাবদ্ধতা হওয়ার এটি অন্যতম কারণ।

শেষপর্যন্ত ড্রেন পরিষ্কারে ব্যর্থতার কথা মানলেও কোরবানির ঈদের বর্জ্য অপসারণে ‘ব্যস্ততার’ বিষয়কে কারণ হিসেবে সামনে আনেন মেয়র আরিফ। তিনি বলেন, বন্যার পরপরই কোরবানির ঈদ চলে এল। ফলে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদের দুর্ভাগ্য, যদি পয়েন্টে পয়েন্টে বা ড্রেনগুলোতে যে ময়লা জমছিল, সেগুলো যদি আমরা পরিষ্কার করে ফেলতাম, তাহলে অনেক জায়গায় পানি উঠতো না বলে বিশ্বাস। আমরা আসলে এতো বেশি বৃষ্টি হবে, তা চিন্তা করিনি। 

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তাৎক্ষণিক সচেষ্ট হই। আবহাওয়া অফিসের আগাম সতর্কবার্তায় অতিপ্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছি।