'বাপ মরছে আট মাস আগে। এখন ভাই গ্যালো গা, আর কিছু বাকি নাই' ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই ভাই হারানোর কষ্টের কথা জানালেন শাবি শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদের বড় ভাই জাকারিয়া।

সোমবার সন্ধ্যায় শাবি ক্যাম্পাসের টিলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ । তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বুলবুলের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিহত বুলবুলের ভাই জাকারিয়ার কথা হয় সমকালের সঙ্গে। ফোনের ওপাশ থেকে কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,আমার দুটা বোন ইন্টার (উচ্চ মাধ্যমিক) পড়ছে। কিন্তু পরীক্ষা দিতে পারছে না। আমি এসএসসি পরীক্ষা দেই নি। আমার ভাইরে নিয়াই আমগো স্বপ্ন আছিলো।'

জাকারিয়া বলেন, 'আমার মায় তো পাগল হয়ে যাবে। আমার বাপ মরছে আট মাস আগে। এখন ভাইরে হারাইলাম। বুলবুলের জন্য আমার বাপ সব করছে। ছোট বোন ফেইসবুকে পেইজ চালিয়ে ব্যবসা করে তাকে টাকা পাঠাত। এলাকাবাসী বলতো বুলবুল এলাকার নাম করবে। স্বপ্ন শেষ ভাই।' এই বলে কেঁদে উঠে আবারও কিছু সময় নিরব থেকে বলেন, 'আল্লায় আমাদের স্বপ্ন পূরণ করলো না।'

ভাই হত্যার বিচার চেয়ে শেষে জাকারিয়া বলেন, 'আমার ছোটভাইকে হারাইলাম। আমরা মানুষের কি ক্ষতি করছি যে আমার ভাইরে নিলো। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।'


এদিকে, বুলবুল হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোমবার রাতে বিক্ষোভ করেন। শাবি শাখা ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সিলেট সুনামগঞ্জ রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই লোকপ্রশাসন বিভাগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় ছাত্রদল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। শিক্ষার্থীরা এ সময় বুলবুল হত্যার ঘটনায় জড়িত দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সাথে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

অন্যদিকে, ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ নিহতের ঘটনায় সোমবার রাতে জালালাবাদ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে এসএমপি'র জালালাবাদ থানা পুলিশ।

এছাড়াও মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুলবুল আহমেদের মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে জোহরের নামাজ শেষে এমএজি ওসমানী মেডিকেল মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লাশ নিয়ে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে নরসিংদীর দিকে রওনা হন তার স্বজনরা।