বাঙালি নারীর পোশাকের অন্যতম অনুষঙ্গ শাড়ি। তাতে একটু কারুকাজ থাকলে তো সোনায় সোহাগা! নারীর এই পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে কিশোরগঞ্জের চার গ্রামের ৮০০ পরিবারের ভাগ্য বদলেছে। এসব পরিবারের সহস্রাধিক নারী শাড়িতে কারচুপির কাজ করে যে অর্থ পাচ্ছেন, তা দিয়ে স্বামীর সঙ্গে সংসারে অবদান রাখছেন। সুচের ফোঁড়ে দুঃখ ঘুচিয়ে সচ্ছলতা এনেছেন তাঁরা। স্বপ্ন দেখছেন, সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার।

কিশোরগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে যশোদল ইউনিয়ন। দারিদ্র্যপীড়িত এই ইউনিয়নের ধলিয়ারচর, স্বল্পযশোদল, ভুবিরচর ও নধার গ্রামের প্রতিটি বাড়ির উঠানে শাড়ি পেতে নারীরা কারচুপির কাজ করছেন। কাঠের ফ্রেমে শাড়ি আটকে তাতে মনের মাধুরী মিশিয়ে পুঁতি, চুমকি ও পাথর বসান। নিপুণ হাতের এই কারচুপিই সাধারণ মানের শাড়িকে করে তুলছে মোহনীয়। অবশ্য শুরুতে হাতেগোনা কয়েকজন এই কাজ শুরু করলেও এখন অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন। অবসরে বা স্কুল ছুটির সময়ে পরিবারের অভিজ্ঞদের সঙ্গে কিশোরী-তরুণীরাও কারচুপির কাজ করছেন।

ধলিয়ারচর গ্রামের কারচুপির কারিগর হারেছা, নাছিমা, জেসমিন, পারভীন, খায়রুন্নেছা ও রিনা জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বড় ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছে শাড়ি, চুমকি, পুঁতি, পাথরসহ সরঞ্জাম সরবরাহ করেন। শ্রম দিয়ে তাঁরা এটিকে মানসম্মত করেন। একটি শাড়ির কাজ শেষ করতে দু-তিন দিন লাগে। বিনিময়ে ৪৫০-৫০০ টাকা মজুরি পান। এসব শাড়িই পরে বাজারে গিয়ে ৫-৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অবশ্য মজুরি নিয়ে কারচুপি শিল্পীদের অভিযোগও রয়েছে। পরিশ্রম অনুযায়ী মজুরি খুবই কম বলে জানান তাঁরা।

ভুবিরচর গ্রামের হেনা আক্তার ও ডালিয়া আক্তার জানান, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার একাধিক নারী ব্যবসায়ী তাঁদের কাছ থেকে শাড়িতে কারচুপির কাজ করিয়ে নেন। শাড়িতে কী কাজ হবে, তা তাঁরাই বুঝিয়ে দেন। দিনে গড়ে চার ঘণ্টা কাজ করা সম্ভব হলে তিন দিনে একটি শাড়ি নামানো যায়। সংসারের কাজের ফাঁকে এসব করে মাসে ৫-৭ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। স্বামীর সঙ্গে নিজেও সংসারে কিছুটা অবদান রাখতে পারছেন বলে জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলার সভাপতি ও সনাক সদস্য মায়া ভৌমিক বলেন, যশোদল ইউনিয়নের এই চার গ্রামের নারীদের কাজ দেখলে মন ভরে যায়। প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন বয়সী নারীরা শাড়িতে কাজ করছেন। বাড়তি আয়ের কারণে সন্তানদের পড়ালেখাসহ বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে পেরে মায়েরা খুবই খুশি।