দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেছেন, আমি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। 

আজ বুধবার প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদ। এরপর এজলাস থেকে বের হওয়ার পর আদালতের বারান্দায় প্রদীপ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। পরে তাকে ও তার স্ত্রীকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

রায়ে প্রদীপ কুমার দাশকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী চুমকি ২১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। 

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের দায়ে কয়েকটি ধারা মিলিয়ে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। রায়ে তাদের অবৈধভাবে সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেন আদালত। প্রদীপ কুমার দাশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় ফাঁসির আসামি। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। প্রদীপ কারাগারে থাকলেও তার স্ত্রী চুমকি তখন পলাতক ছিলেন। গত ২৩ মে চুমকি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন পাথরঘাটায় ৬ তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব এবং কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে চুমকির নামে।

তাদের ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক। এ ছাড়া চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী দাবি করলেও এ ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০২১ সালের ২৬ জুলাই প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। মামলায় ২৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষ্য দেন।