নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অপমান সইতে না পেরে আলা উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান আলা উদ্দিন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সেলিম বাজারে চৌধুরী মাঝির দোকানের সামনে ওয়ার্ড মেম্বার কেফায়েত উল্যাহ তাকে লাঠি দিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করেন বলে জানা যায়।

আলা উদ্দিন উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব চরমজিদ গ্রামের আবদুল হকের ছেলে। তার দুই ছেলে রয়েছে।

মারা যাওয়া আলাউদ্দিনের এক স্বজন জানান, পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলা উদ্দিনের মামা আবদুল হক তাকে ধরে বাজারে নিয়ে যায় । সেখানে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার কেফায়েতের কাছে নালিশ করে তার বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন। এক পর্যায়ে মেম্বার কেফায়েত আলা উদ্দিনকে গালমন্দ করেন এবং প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে অপমানিত হয়ে বাড়িতে গিয়ে রাতে আলা উদ্দিন বিষ পান করেন। পরে তাকে দ্রুত সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলা উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করে। আত্মীয় স্বজনরা তাকে রাতেই ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে বুধবার ভোরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আলা উদ্দিনকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার কেফায়েত উল্যাহ বলেন, আলা উদ্দিন তার মাকে প্রায়ই মারধর করতেন। মঙ্গলবার আলা উদ্দিনের কাছে তার মা আম খেতে চাইলে তিনি মায়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টি তার মা মায়া বেগম তাকে (মেম্বার) জানালে আলা উদ্দিনকে ডেকে আনা হয়। প্রকাশ্যে আলা উদ্দিন অপরাধ করেছে বলে স্বীকার করলে তাকে মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু তিনি মায়ের কাছে ক্ষমা না চেয়ে বিষ পান করেন।

বিষপানে আলা উদ্দিনের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভায়রা জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, রাতে আলা উদ্দীনকে ঢাকায় নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  

এ বিষয়ে চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, তারা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে আত্মহত্যার খবর পেয়েছেন। চরজব্বার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মীর হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।