গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে খুন হওয়ার ৫ বছরেও ২৫ বছর বয়সী তরুণীর পরিচয় মেলেনি। তবে ওই তরুণীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অনৈতিক সম্পর্ক করার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হত্যার পর হোটেলের খাটের নিচে তরুণীর লাশ লুকিয়ে রাখা হয় বলে গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জানা যায়, গাজীপুর সদরের হোতাপাড়া এলাকার বৈশাখী আবাসিক হোটেলে বিভিন্ন তরুণীদের এনে অনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হতো। ওই হোটেলের ২০৪ নম্বর কক্ষের খাটের নিচ থেকে পুলিশ ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। কিন্তু নিহত তরুণীর পরিচয় উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার ৫ বছর পর তরুণীকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত জিয়াউর রহমান সুমন, আমির হোসেন ফকির ও কামরুল হাসান সবুজকে মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থান থেকে গাজীপুরের পিবিআইয়ের সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। পরে এদিন রাতেই গ্রেপ্তার ৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।

বুধবার পিবিআইয়ের গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মাকছুদের রহমান জানান, তারা ৩ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার লোমর্হষক বর্ণনা দিয়েছে। আদালতকে তারা জানিয়েছেন, ‘হোতাপাড়ার বৈশাখী হোটেলে বিভিন্ন ধরনের তরুণী এনে তারা পতিতার ব্যবসা করাতো। ঘটনার দিন রাতে তাদের ৩ জনকে টাকা দিয়ে বিভিন্ন পুরুষ ওই তরুণীর কাছে যায়। ওই সব পুরুষ ২০৪ নম্বর কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে একপর্যায়ে গ্রেপ্তার তিনজন ওই কক্ষে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা তরুণীর সঙ্গে মেলামেশার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর খাটের নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে বলে আদালতকে জানিয়েছে।’

‘পরবর্তী সময় হোটেলের মালিক ইকবাল হোসেনকে তারা টেলিফোনে বিষয়টি জানালে তিনি মেয়েটির লাশ একটি ড্রামের ভেতর ভরে হোটেলের পেছনে খালি জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখার জন্য বলেন। তখন তারা মালিকের পরামর্শে লাশটি ড্রামে ভরে হোটেলের পিছনে পুঁতে রাখার জন্য নিয়ে গেলে লোকজন থাকায় পুঁতে রাখতে না পারায় পুনরায় লাশ হোটেলের খাটের নিচে রেখে পালিয়ে যাই।’

‘পরে পুলিশ সেখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানার হোতাপাড়া ফাঁড়ির এসআই রফিকুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন। জয়দেবপুর থানা পুলিশ মামলাটি প্রায় ৩ বছর তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে তদন্ত শেষে  আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

পরে আদালত এ মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই গাজীপুর জেলাকে নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জামাল উদ্দিন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রহস্য উদঘাটন করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মো. জিয়াউর রহমান সুমন, আমির হোসেন ফকির ও কামরুল হাসান সবুজকে তিনি মঙ্গলবার ভোরে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান।