চট্টগ্রাম বন্দরে মদের চালান সন্দেহে ব্লক করা হয়েছে ১৫০টি কন্টেইনার। শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করতেই এসব কনটেইনার 'ব্লক' করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তিন দিনে পাঁচ কন্টেইনার মদ উদ্ধারের পর এবার ব্লক করা হলো সন্দেহভাজন এসব কনটেইনার। একসঙ্গে এতো কনটেইনার ব্লক করার ঘটনা এটাই প্রথম। ফলে এসব কনটেইনার খালাস করতে পারবেন না আমদানীকারকরা।

বুধবার ব্লক করা এসব কনটেইনারে থাকা পণ্য কে এনেছে, কোথা থেকে এসেছে, ঘোষণা কী ছিল, কতজন আমদানিকারক আছেন- এমন সব তথ্য খতিয়ে দেখবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এরপর কাস্টমস কর্মকর্তারা সব কনটেইনারের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন।

প্রসঙ্গত, কাস্টমস কর্মকর্তার গোপন পাসওয়ার্ড নিয়ে এনবিআরের সার্ভারে ঢুকে মদের দুটি চালান খালাস করে নিয়ে যায় জালিয়াতচক্র। এরপর আরও দুই দফায় তিনটি কনটেইনার পরীক্ষা করে সবগুলো থেকে মদ পায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) ও পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট (পিসিইউ)।

জানা যায়, জব্দ করা কনটেইনাগুলোর মধ্যে পণ্য খালাসের জন্য যারা কাস্টমস হাউসে নথি জমা দিয়েছেন তাদের বিল অব এন্ট্রি ব্লক করা হয়েছে। আর যেসব চালানের এখনো বিল অবদ এন্ট্রি দাখিল হয়নি, সেসব চালানের বিল অব ল্যান্ডিং (বিএল) ব্লক করেছে কাস্টমস। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা করছেন, ব্লক করা কন্টেইনারগুলোতে অবৈধভাবে আমদানি করা মদ রয়েছে।

জানতে চাইলে কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, ‘সন্দেহভাজন কিছু কনটেইনার আমরা ব্লক করেছি। নথি যাচাই-বাছাই করে এগুলো শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হবে। তবে ১৫০ কন্টেইনারে ঝুঁকিপূর্ণ বা অবৈধ কিছু না থাকলে ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না।’ তিনি বলেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

এদিকে আইপি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইপিজেড শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) নাছির উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার গোপন আইডি কে কিভাবে পেল তাও তার জানা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।