ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ইসি চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মিথ্যা গুমের নাটক সাজিয়ে তাকে ফাঁসানোরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আনিসুজ্জামান। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালত মামলাটি অনুসন্ধানের জন্য পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

আনিসুজ্জামানের বড় ভাই সাইফুজ্জামান চৌধুরী একজন সংসদ সদস্য এবং ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। ভূমিমন্ত্রী এবং তার ভাইয়ের ক্ষতি করতে একটি চক্র গণমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি গোলাম সরোয়ারের তৈরি করা একটি প্রতিবেদন ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রতিদিনের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীর জায়গায় ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের কুদৃষ্টি’।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয় ‘চট্টগ্রাম নগরের সার্জন রোডের জেএস কনস্ট্রাকশনের ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জায়গা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন আনিসুজ্জামান। এমনকি সেখানে নির্মাণ কাজ করতে গেলে হত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন আনিসুজ্জামান।

কিন্তু মামলার পর পিবিআইয়ের তদন্তে এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করছে আনিসুজ্জামান পক্ষ। তাদের দাবি, নিজেদের কেনা জমি নিজেরা দখল করেছেন। কিন্তু একটি চক্র তাদের হয়রানি করছে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা।

পিবিআইসহ বিভিন্ন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই জমির প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ মেজবাউদ্দৌলা ২০১১ সালের ২৭ জুন জেএস কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত একটি চুক্তি করেন। পরে তিনি জেএস কনস্ট্রাকশন বরাবর একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন। কিন্তু জেএস কনস্ট্রাকশন চুক্তি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত কোনো কাজ না করে শর্ত ভঙ্গ করেন। এরপর ওই জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। একপর্যায়ে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করে নোটিশ দেন জমির মালিক মেজবাউদ্দৌলা। ২০১১ সাল থেকে অপেক্ষার পর ২০২০ সালে তিনি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রত্যাহার করেন। এরপর ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর আনিসুজ্জামানের স্ত্রী ইমরানা জামান চৌধুরীর কাছে ওই জমি বিক্রি করে দেন মেজবাউদ্দৌলা চৌধুরী।