রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে আসলে ওই ছাত্রীর বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে জখম করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মমতাজউদ্দিন আহমেদ একাডেমিক ভবনের সামনে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার ওই ছাত্রীর পক্ষে প্রতিবাদ করে ছুরিকাঘাতে আহত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাকিব আল হাসান ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের ছাত্র। আর ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছুরিকাঘাতে জখম তিন শিক্ষার্থী হলেন নাইম, শুভ ঘোষ ও নয়ন আলী।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী জানান, একই জেলায় বাড়ি হওয়ায় আগে থেকেই রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। রাকিব প্রায়ই তাকে বিরক্ত করত। গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে এক বান্ধবীসহ ওই তিনি হলে যাওয়ার পথে মমতাজউদ্দিন কলা ভবনের সামনে রাকিবের সঙ্গে দেখা হয়।

‘এ সময় রাকিব তাকে থামিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু চলে আসার সময় রাকিব পেছন থেকে আমার ওড়না ধরে টান দেন। এতে তার জামা ছিঁড়ে যায়। পরে তাকে চড়-থাপ্পড় মারে রাকিব। এ সময় রাকিবের সঙ্গে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল।’ যোগ করেন ভুক্তভোগী।

তবে বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাকিবের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর দেড় বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। ওই ছাত্রী রাকিবের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। সে বিষয়েই কথা বলতেই ওই ছাত্রীকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন রাকিব। এই সময় ওই ছাত্রী চলে যেতে চাইলে থাপ্পড় মারেন রাকিব।

বিষয়টি ভুক্তভোগী ছাত্রী তার বন্ধুদের জানালে, তারা বিভাগের কয়েকজন জুনিয়রসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় ছাত্র-উপদেষ্টা ড. তারেক নূর ও মতিহার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত হন। পরে রাকিব ও তার বন্ধুদের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বন্ধুদের হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা ওই ছাত্রীর বন্ধু নাইম, শুভ ও নয়নকে ছুরিকাঘাত করেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে রাকিব ও তার বন্ধুদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা তারেক নূরও লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবের শাস্তি চেয়ে আহতরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টা বরাবর।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে রাকিবের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ বিষয়ে ছাত্র-উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, শুনেছি ছাত্র-উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ততার কারণে এখনও তা হাতে পাইনি। হয়তো আগামীকাল হাতে আসবে। তখন আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।