মাসুক ঢাকা থেকেই ফিরতি টিকেট নিয়ে এসেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে। কিন্তু স্টেশনে ঢুকেই দেখেন বুধবারের পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। টিকেট কেটেও যাত্রীরা উঠতে পারছেন না। আরেকটি পক্ষ ট্রেনের সামনে শুয়ে আন্দোলন করছেন স্পেশাল ট্রেন দেওয়ার দাবি জানিয়ে।

মাসুকের মতো এমনই অসংখ্য যাত্রী উঠতে না পেরে তারাও আন্দোলনে নামেন। এভাবেই চলে যায় আড়াই ঘণ্টা। পরে বিকেল ৪টার ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেসে পরে অতিরিক্ত বগি লাগিয়ে ছেড়ে যায় ৬টা ২৫ মিনিটে। তবে ১ হাজার ৩০০ যাত্রী ধারণক্ষমতা-সম্পন্ন ট্রেনটিতে গেছেন প্রায় ২ হাজারেরও বেশি যাত্রী। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে।

রাবিতে এবার তিন দিনের ভর্তি পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি। তাদের সঙ্গে এসেছিলেন অভিভাবকরাও। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষ এসেছিলেন রাজশাহীতে। এ কারণে আবাসনসহ বাস-ট্রেন সব ক্ষেত্রেই দেখা দেয় সংকট।

বিকেলে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ার আগেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্টেশনে ছুটে যান। টিকিট না থাকলেও হুড়মুড় করে অনেকে উঠে যান। বাকি থাকেন আরও অন্তত ১ হাজার শিক্ষার্থী। তারাও এই ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন অথবা স্পেশাল ট্রেন দেওয়ার দাবি করেন। একসময় তারা ট্রেনটির সামনে শুয়ে অবরোধ করেন।

পরে ইঞ্জিন চালু করে দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। পরীক্ষার্থীদের সরে যেতে ট্রেনটি যতবার হুইসেল দেয়, ততবারই পরীক্ষার্থীরা চিৎকার করতে থাকেন। দিতে থাকেন স্লোগান। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরাতে ব্যর্থ হন। পর আসে পুলিশ। এরপর আসে র‌্যাব। কিন্তু কেউ পরীক্ষার্থীদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার সাহস দেখায়নি। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক অসীম কুমার তালুকদার গিয়ে পরীক্ষার্থীদের বোঝান যে, ইতোমধ্যেই এই ট্রেনে দুটি অতিরিক্ত কোচ লাগানো হয়েছে। আরও একটি দেওয়া হচ্ছে। এর বেশি তার সামর্থ্য নেই। এই ট্রেনে যাঁরা যেতে পারবে না তাঁদের রাতে পাঠানো হবে। এ সময় পরীক্ষার্থীরা লিখিতভাবে মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।

কিন্তু এরমধ্যেই আরেকদল বাগড়া দেয়। এই দলের কেউ কেউ বলে ওঠেন, ট্রেন অবরোধ করায় তাদের মারধর করা হয়েছে। গালি দেওয়া হয়েছে। পাথর ছোড়া হয়েছে। ফলে ট্রেনটি আটকেই থাকে। পরে রেল কর্মকর্তারা ভর্তিচ্ছুদের বোঝাতে সক্ষম হন। এরপর ৬টা ২৩ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। তখনও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্টেশনে ছিলেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘সবাই এই বিকেলের ট্রেনেই ফিরতে চায়। কিন্তু এর সামর্থ্য ১ হাজার ২০০ যাত্রী নেওয়া। পরে ১০৫টি আসনের আরও একটি বগি লাগিয়ে তাদের পাঠানো হয়েছে। তবে ১৩০৫ আসনের ট্রেনে যাত্রী গেছেন কমপক্ষে ২ হাজার। তবে কাউকে ছাদে উঠতে দেওয়া হয়নি। তাই কোনো ঝুঁকি হবে না আশা করছি।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার সময় কেউ কেউ পাথর ছুড়েছে। এতে করে দু-একজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।