খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন বলেছেন, মানবসভ্যতার শুরু থেকে যেসব প্রাণীকে গবাদি পশু হিসেবে পালন করা হয়, এর মধ্যে ভেড়া অন্যতম। কিন্তু আমাদের দেশে খাদ্য হিসেবে ভেড়ার মাংস খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। অথচ অনেক সময় আমরা বাজার থেকে খাসির মাংস হিসেবে কিনে আনা ভেড়ার মাংস খাচ্ছি। না জেনে ভেড়ার মাংস খাওয়ার চেয়ে জেনে ভেড়ার মাংস খাওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের আয়োজনে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় ভেড়া উন্নয়ন বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এ বক্তব্য দেন। বুধবার সকালে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. অরুণ কান্তি মণ্ডল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. সরদার শফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দেন প্রকল্পের সহযোগী গবেষক এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

গ্রান্ট অব অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন এডুকেশন (জিএআরই) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যানবেইসের অর্থায়নে 'যথাযথ প্রজনন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের ভেড়ার উন্নয়ন' শীর্ষক ৩ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপাচার্য বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের গবেষকরা দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় স্থানীয় ভেড়ার সঙ্গে মেহেরপুরে গাড়ল প্রজাতির ভেড়ার শঙ্করায়নের মাধ্যমে জাত উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে, যা আমিষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি লবণসহিষুষ্ণ গাছের পাতা ও ফল ভেড়ার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা, তা নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানান।