বগুড়ার আদমদীঘিতে দুটি পৃথক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে শামিমা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এছাড়া একটি বাজারের ১১ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বুধবার গভীর রাতে ও বৃহস্পতিবার ভোর রাতে উপজেলার শাওইল বাজারে সুতার দোকান ও বশিপুর গ্রামে একটি বসত বাড়িতে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত শামিমা বেগম বশিপুর গ্রামের জাহেদুল ইসলামের স্ত্রী।  

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৫টায় উপজেলার নসরতপুর ইউপির শাওইল বাজারে একটি সুতার দোকানে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ১১টি সুতার দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে আদমদীঘির ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই সময় ১১টি দোকানে রাখা প্রায় ২৫ লাখ টাকার সুতাসহ মালামাল পুড়ে যায় বলে মার্কেট মালিক আবু রায়হান জানান। আদমদীঘি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন জানান, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

একদিকে বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বশিপুর গ্রামে আজাদুল ইসলামের টিনসেডের বসত বাড়িতে আগুন লাগে। রাতেই নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গ্রামবাসির সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে তার আগেই শয়ন ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধু শামিমা বেগম পুড়ে মারা যান। এতে ওই বাড়ির প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানা গেছে। ঘটনায় পর থেকে নিহতের স্বামী আজাদুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শফিউল ইসলাম জানান, মশা মারা কয়েলের আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আদমদীঘি সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) নাজরানা রউফ জানান, উপজেলার শাওইল বাজারে বিদ্যুতের সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।  এছাড়া বশিপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ]

সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।