শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদের মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। তাঁর শরীরের চারটি স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এর মধ্যে বুকের আঘাতে হৃৎপিণ্ড ফুটো হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বুলবুলের লাশের ময়নাতদন্তকারী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বুলবুলের শরীরে চারটি আঘাতের মধ্যে পেট, বুক ও ঊরুর আঘাত গুরুতর। বুকের আঘাতে হৃৎপিণ্ড ফুটো হয়ে যায়। এর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাজীকালু টিলায় খুন হন লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বুলবুল আহমেদ। মঙ্গলবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবাশীষ দেব।

এদিকে বুলবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কামরুল আহমদ ও মো. হাসান আদালতে জবানবন্দি দেন। সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক সুমন ভূঁইয়া তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। গত বুধবার আরেক আসামি আবুল হোসেন জবানবন্দি দেন।

এ ছাড়া এদিন বুলবুলের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ চার দফা দাবি জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে লোকপ্রশাসন বিভাগ।

অন্য দাবি হলো- ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় সিসিটিভি সচল, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, টিলাগুলোতে প্রহরী বৃদ্ধি এবং বুলবুলের স্মৃতি রক্ষার্থে হত্যার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে বুলবুল চত্বর ও ২৫ জুলাইকে বুলবুল হত্যা দিবস ঘোষণা।