পদ্মা সেতু দিয়ে যানবানহ চলাচল শুরুর পর ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে তীব্র যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে তাদের ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগে সপ্তাহে প্রতিদিন বাংলাদেশ বিমান ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে যাত্রী পরিবহন করলেও আগামী ৫ আগস্ট থেকে সপ্তাহে তিনদিন যাত্রী পরিবহন করবে। যদিও বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই রুটে ফ্লাইট কমানোর কারণ হিসেবে বলেছে, ক্রু সংকটের কারণে বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে বিমানের ফ্লাইট কমানো হয়েছে।

যাত্রী সংকটে পড়ে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে চলাচলকারী নভোএয়ার আগামী ১ আগস্ট থেকে এ রুটে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের বরিশাল জেলা ব্যবস্থাপক মো. আবু আহম্মেদ শনিবার দুপুরে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট কমানোর তথ্য জানিয়ে সমকালকে বলেন, আগামী ৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে বৃহস্পতি, শুক্র এবং রোববার এই তিনদিন বরিশাল-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এর আগে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা নভোএয়ার গত বুধবার যাত্রী সংকটের কারণে ১ আগস্ট থেকে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। নভোএয়ারের মার্কেটিং অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক নিলাদ্রী মহারত্ন সমকালকে বলেন, ১ আগস্ট থেকে আপাতত ঢাকা-বরিশাল রুটে নভোএয়ারের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকবে।

করোনা সংকটের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে সপ্তাহে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হলে সড়কপথে সহজ যোগাযোগ এবং খরচ কম হওয়ায় যাত্রী সংকটে পড়ে আকাশ পথ। আর তাই নভোএয়ারের ফ্লাইট স্থগিতের পর ফ্লাইট কমালো বাংলাদেশ বিমান। এর আগে গত ২৬ জুলাই ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দিনে চলাচলকারী দ্রুতগামী নৌযান এমভি গ্রিনলাইনের যাত্রী পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিমানের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. আবু আহম্মেদ বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতে সময় ও খরচ কমে গেছে। এতে আকাশপথে যাত্রী কমেছে। গত শনিবার থেকে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া ৩২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০০০ টাকা করার পরও যাত্রী মিলছে না। তিনি বলেন, ঈদুল আযহার পর থেকে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে বাংলাদেশ বিমানের ৭৪ আসনের জাহাজের অধিকাংশ আসনই ফাঁকা যেতো। তাই ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে।