আগস্টে আরেকটি ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিবছর বন্যায় ভোগে কুড়িগ্রামের মানুষ। সরকারি হিসাবমতে, ৫৩৮ টন চাল, ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রামের বন্যার্তদের জন্য। এখানকার ৯ উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের ৩১৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৩৮। তলিয়ে গেছে ১৫ হাজার ৮৫১ হেক্টর ফসলি জমি। ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার পোনা মাছ ভেসে গেছে। ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ৯৪৪টি নলকূপ ও ৩০২টি ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এটা তো সরকারি হিসাব। বাস্তবতা হচ্ছে, কুড়িগ্রামের ১৬ নদনদীর সাড়ে ৪০০ চরাঞ্চলের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ বন্যার তোপে পড়েছে। কমবেশি প্রত্যেকের ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে খড়। তাই গবাদি পশুর খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখানকার মানুষ বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গবাদি পশু বিক্রি করে। সে টাকায় আবার দেখে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এর আগে আগাম বন্যায় চরের তিল, তিসি, চিনা, কাউন, মসুর ডাল, বাদাম, ধান ও পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে এখনই বোঝা যাচ্ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। শুধু কি তাই, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এ নদীভাঙন থেকে অন্যত্র বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার 'ধস্তাধস্তি' চলবে আরও কয়েক মাস। সদ্য বন্যাফেরত মানুষ এবার লড়বে নদীভাঙন ও পানিবাহিত রোগের সঙ্গে। তারপর শুরু হবে ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধ। এ 'ঘুরে দাঁড়ানো'র যুদ্ধে বৈষম্য ভুলে একটু সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই হয়। বন্যার সময় ত্রাণের জন্য কুড়িগ্রামের মানুষ হাহাকার করে না। প্রতি বছর তারা বন্যা মোকাবিলা করে। বন্যার পানি থেকে নিজের বাড়ি বাঁচানোর জন্য রাস্তা কাটে না; বরং রাস্তা যেন কেউ কেটে না দেয়, সেজন্য পালা করে পাহারা বসায়। তারা ত্রাণ চায় না; চায় বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান। বিগত '৮৮, '৯৫, '৯৮ সালের বড় বন্যায় যেসব বাঁধ ভেঙেছে, তার অনেকটি এখনও মেরামত করা হয়নি। সেগুলোসহ বন্যাকবলিত স্থানে নতুন কিছু বাঁধ নির্মাণ; নদনদী খনন; রৌমারীর উত্তরে সাহেবের আলগায় ব্রহ্মপুত্রের মুখ লাগোয়া বাঁধটি টেকসই বা স্থায়ী হওয়ার ব্যবস্থা; বন্যায় জানমাল ও গবাদি পশু রক্ষায় প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হোক। বন্যার পর প্রান্তিক কৃষকদের পর্যাপ্ত কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হোক।
রৌমারী, কুড়িগ্রাম