স্বজন ও অনুসারীদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিন। ফেরার পথে গত বুধবার মধ্যরাতে চট্টগ্রামে তাঁর গাড়িবহরে হামলা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে হামলার রহস্য উদ্ঘাটনে সোহেল নামে একজনকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, পূর্ববিরোধের জের ধরে ভাড়াটিয়া হামলাকারীরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে পৌর মেয়র আলাউদ্দিনের অভিযোগ, দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন আখুঞ্জি তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীদের ভাড়া করেছেন। তবে আখুঞ্জি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নেত্রকোনার স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্গাপুর সোমেশ্বরী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর ভাগনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন- কর্ণফুলী থানার বড় উঠান গ্রামের আলী আকবর, বাঁশখালী থানার গণ্ডামারা গ্রামের শহিদুল ইসলাম, বাকলিয়া থানার ক্ষেতচর এলাকার রবিন, সাতকানিয়ার পূর্ব নলুয়া গ্রামের আরাফাত ও বাঁশখালীর পশ্চিম গুনাগরী গ্রামের মিনহাজ।

দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিন সমকালকে জানান, গত ৩১ আগস্ট রাতে নেত্রকোনা থেকে আত্মীয়স্বজনসহ প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে কক্সবাজারে যান তিনি। বুধবার শামীম এন্টারপ্রাইজের এসি বাসে সেখান থেকে নেত্রকোনা ফিরছিলেন। বাসের আগে ব্যক্তিগত গাড়িতে ছিলেন তিনি।

আলাউদ্দিন বলেন, রাত ১১টার দিকে বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের তুলাতলী এলাকায় পৌঁছালে কয়েক যুবক সংকেত দিয়ে বাসটি থামান। পুলিশ পরিচয়ে তাঁকে খোঁজেন তাঁরা। না পেয়ে তাঁর বডিগার্ড সাগর খানকে বের করেন। এরপর তাঁকে মারধর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাসে থাকা লোকজন বাধা দিলে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন। তখন এক যুবককে ধরে ফেলেন তাঁরা।

আলাউদ্দিন জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আটক যুবককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আলাউদ্দিনের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাদ্দাম হোসেন তাঁকে মেরে ফেলতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আখুঞ্জি বলেন, মামা আলাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ আছে। কিন্তু তাঁর গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

পুলিশ সূত্র জানায়, পৌর মেয়রের বডিগার্ড সাগর খানের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা পুলিশকে জানান, মেয়রের গাড়িবহরে হামলা চালাতে সোহেল নামে চট্টগ্রামের এক যুবক তাঁদের ভাড়া করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হামলা চালিয়েছে।

নেত্রকোনার রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে চট্টগ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। সোহেলকে গ্রেপ্তার করলে হামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে মনে করেন তাঁরা। এ ঘটনায় সাগর খান বাদী হয়ে ১০-১২ জনের নামে বাকলিয়ায় মামলা করেছেন।

বাকলিয়া থানার ওসি আবদুর রহিম সমকালকে বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হামলা হয়েছে। কারণ, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা চট্টগ্রামের। তাঁদের নেত্রকোনার মেয়র বা তাঁর বডিগার্ডকে চেনার কথা নয়। তাঁরা গাড়িতে উঠে মোবাইলে ছবি দেখিয়ে বডিগার্ড সাগর খানকে খুঁজছিলেন।

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তাঁদের ভাড়া করেছেন, তাঁকে তাঁরা খুজছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছেন কিনা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।