মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় প্রয়োজনীয় বৃষ্টির অভাবে মাটি খুঁড়ে পাটজাগ দিচ্ছেন চাষি। আবার কেউ কেউ পুকুর, খাল, ১০-১২ কিলোমিটার দূরে নদীতে জাগ দিয়েছেন। এতে পাটের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে বীজতলা প্রস্তুত থাকলে আমনের আবাদ করতে পারছেন না কৃষক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা যায়, গোপালনগর গ্রামে শুকনো জায়গায় গর্ত করে পাট জাগ দিচ্ছেন কয়েকজন। অনেকে পুকুরে শ্যালো মেশিনে পানি দিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। আর্থিক সচ্ছল কৃষক নছিমন অথবা ট্রলি দিয়ে নিয়ে পাট ১০-১২ কিলোমিটার দূরে বিনোদপুরের নবগঙ্গা নদী ও রাজাপুরের রাজপাট খালে জাগ দিয়েছেন।

কৃষক আবুল বাশার বলেন, অতিরিক্ত পাট জাগ দেওয়ায় নবগঙ্গার পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে গেছে যে, পাট জাগ দিতে গিয়ে তাঁর শরীরে ঘা শুরু হয়ে গেছে। এ কারণে দুই সপ্তাহ ধরে পানিতে নামতে পারছেন না তিনি।

গোপালনগর গ্রামের কৃষক মেজর ও শাহাজান মিয়া জানান, পাট রোদে পুড়ে লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে পাটগাছ। জমি থেকে পাট কাটতে গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ টাকা গুনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাট নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই তাঁদের। দুই বিঘা জমির পাট মাটি খুঁড়ে জাগ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

একই এলাকার কৃষক আবির হোসেন, ধলা মিয়া, মোদাচ্ছের হোসেন জানান, অনাবৃষ্টি, আর নদ-নদীর অব্যবস্থাপনার কারণে চরম পানি সংকটে পড়েছেন তারা। ফলে কিছুটা রেটিং পদ্ধতিতে (কাঁচা পাটের আঁশ ছাড়িয়ে জাগ দেওয়া) মাটি খুঁড়ে গর্ত করে পাট জাগ দিচ্ছেন।

আওনাড়া গ্রামের ধান চাষি আকরাম বলেন, 'আমি দুই বিঘা জমির পাট কেটে ফেলেছি আমন ধান লাগাব বলে। বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও বৃষ্টির অভাবে জমি চাষ করতে পারছি না। দু-এক দিন দেখার পরে সেচের ব্যবস্থা করে ধান লাগাব। কিন্তু এত খরচ করে আবাদ করা পাট কী করবও তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে। খরাসহিষুষ্ণ রবি-১ জাতের পাটের চাষ বেশি করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান বলেন, দাম ভালো হওয়ায় এবার উপজেলায় পাটের চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। অতিরিক্ত খরার কারণে রোগে আক্রান্ত হয়ে পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচসুবিধা অব্যাহত রাখতে গভীর নলকূপগুলো চালু করার পরামর্শ দিচ্ছেন।