প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে বরগুনার তালতলীতে আসা ভারতের তামিলনাড়ুর তরুণ প্রেমকান্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে তালতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মেয়েটির বাবা। শুক্রবার রাতে এ আবেদন করেন তিনি। এদিকে সন্ধ্যার পর প্রেমকান্তও তালতলী ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি এখন কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারছেন না। 

তালতলী থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রেমকান্ত শুক্রবার দুপুরে তালতলী আসেন। সেখানে তিনি শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি বাংলোতে ছিলেন। 

প্রেমকান্তের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সঙ্গে তালতলী উপজেলার টিএন্ডটি রোডের বাসিন্দা ও বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। টানা তিন বছর ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক চলছে। এক পর্যায়ে শুধু মেয়ের সঙ্গে নয়, দুই পরিবারের মধ্যেই সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভালোবাসার মানুষটিকে সরাসরি দেখার জন্য তামিলনাড়ু থেকে প্রথমে বাংলাদেশের বরিশাল শহরে ও পরে তালতলীতে আসেন তিনি। 

প্রেমকান্ত জানান, বরিশালে আসার পর ওই শহরে দেখাও মেলে তার প্রেমিকার সঙ্গে। 

নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা প্রেমকান্ত আরও জানান, করোনার কারনে এতদিন তিনি বাংলাদেশে আসতে পারেননি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রেমকান্ত গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশে আসেন। বরিশালের একটি রেস্টুরেন্টে প্রেমিকার সঙ্গে দেখাও করেন তিনি।

দেখা হওয়ার একদিন পর প্রেমকান্ত জানতে পারেন তার অজান্তেই অন্য কারো সঙ্গে তার প্রেমিকা প্রেম করেন। আর এরপরই হঠাৎ করেই প্রেমিকা ও তার পরিবার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনকি প্রেমিকার আরেক প্রেমিকের হাতে মারধরের শিকার হন তিনি। পরে বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের হেফাজতেও থাকতে হয় তাকে।

আর এতোকিছুর পরেও প্রেমকান্তের বিশ্বস ছিল-দেখা হলে হয়তো আবারও তার জীবনে ফিরে আসবেন তার ওই প্রেমিকা। তাই গতকাল শুক্রবার সকালে বরিশাল থেকে সড়কপথে তালতলী আসেন প্রেমকান্ত। দুপুরে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে তালতলীর একটি বাংলোতে অবস্থানের পর প্রেমিকার অনেক সন্ধান করেও তাকে না পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি তালতলী ত্যাগ করেন। এরপর তিনি কোথায় আছে তা আর জানা যায়নি।

এদিকে মেয়েটির বাবা কৃষ্ণ মেনন মন্ডল তালতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, প্রেমের দাবি করে তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্ত আমাদের পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। আমি এর প্রতিকার চাই।

তিনি আরও বলেন, ২৪ জুলাই বরিশালের একটি রেষ্টুরেন্টে মেয়েটি ৩ বান্ধবীসহ ছেলেটির সঙ্গে দেখা করে। এর পর ২৭ জুলাই  বরিশালের কাশিমপুর এলাকায় ছেলেটির ডাকে মেয়ে দেখা করতে গেলে তাকে কুপ্রস্তাব দেয় এবং ছেলেটির সঙ্গে ঢাকা যেতে বলে।  এনিয়ে ছেলেটির সঙ্গে আমার মেয়ের তর্ক হয়। স্থানীয় লোকজন ঘটনা প্রত্যাক্ষ করে তারা প্রেমকান্তকে বরিশাল বিমানবন্দরে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। 

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখোয়াত হোসেন তপু বলেন, আইনি সহায়তা চেয়ে মেয়েটির বাবা কৃষ্ণ মেনন মন্ডল শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে ভারতের তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্ত তালতলীতে আসার পর তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বাংলোতে দু’জন পুলিশ পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।