সিলেটের ওসমানীনগরে বদ্ধ ঘর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সামিরা ইসলাম মারা গেছেন। ১১ দিন সংজ্ঞাহীন থাকার পর শুক্রবার গভীর রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে প্রবাসী পরিবারটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে তিনজনেরই মৃত্যু হল। এ ঘটনায় এখনও রহস্যের জট খোলেনি। পুলিশ ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে।

গত ২৬ জুলাই ঘটনার পরই মারা যান সামিরার বাবা রফিকুল ইসলাম ও ছোট ভাই মাইকুল। পরিবারের তিন সদস্য হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন সুস্থ হওয়া রফিকুলের স্ত্রী হুসনারা বেগম ও ছেলে সাদিকুল।

এ ট্র্যাজেডি কয়েকদিন ধরেই সিলেটের অন্যতম আলোচনার বিষয়। মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশ ও গোয়েন্দারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনও কোনো ক্লু বের করতে পারেননি তারা। কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে চলছে তদন্ত। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, বাসায় ব্যবহার করা জেনারেটরের ধোঁয়া বা এ থেকে গ্যাস বের হয়ে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

সিলেটের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমদ জানান, তদন্তে কাজ করছে কয়েকটি সংস্থা। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সামসুল হক সমকালকে জানান, প্রাথমিকভাবে কোনো আলামত মেলেনি। ফলে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে এখন ভিসেরা রিপোর্টই ভরসা। রফিকুল ও ছেলে মাইকুলের ভিসেরা রিপোর্ট মাসখানেকের মধ্যে আসতে পারে। সামিরার আলামতও ভিসেরা রিপোর্টের জন্য পাঠানো হবে। তাদের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সামিরার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফেরা মা হুসনারা ও ভাই সাদিকুলসহ স্বজনরা। হুসনারা জানান, এখন আর কাঁদলেও চোখের জল আসছে না। তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। বিকেলে জানাজা শেষে সামিরাকে নিজ গ্রাম ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাইয়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে বসবাসকারী ওসমানীনগরের ধিরারাই গ্রামের রফিকুল ইসলাম সপরিবারে দেশে ফেরেন গত ১২ জুলাই। অসুস্থ ছেলে সাদিকুলকে ইংল্যান্ডে চিকিৎসা দিয়েও সুফল পাচ্ছিলেন না। দেশে তাকে চিকিৎসা করানোর কথা ছিল। সে অনুযায়ী প্রায় এক সপ্তাহ ঢাকায় থেকে ছেলেকে নিয়ে ১৮ জুলাই ওসমানীনগরের তাজপুরে ভাড়া বাসায় ওঠেন। পরে ২৬ জুলাই সকালে পুলিশ ভাড়া বাসার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে তাঁকে, ছেলে সাদিকুল ও মাইকুল, স্ত্রী হুসনারা ও একমাত্র মেয়ে সামিরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক রফিকুল ও ছেলে মাইকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। অসুস্থ সামিরা, মা হুসনারা ও ভাই সাদিকুলকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। মা ও ভাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সামিরা আর ফেরেননি।