পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামের একটি প্রবাসী পরিবারকে পদে পদে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাড়িতে বিস্ফোরক রেখে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, অবৈধ অস্ত্র রয়েছে- এমন তথ্য দিয়ে র‌্যাব দিয়ে ওই বাড়িতে অভিযান, বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তাদের। প্রতিবারই পুলিশের তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিস্ফোরক রাখার প্রমাণ পাওয়ায় ওই পরিবারের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা হয়েছে। এরপরও কমছে না হয়রানি।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব হয়রানির বর্ণনা দেন ডুমুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আমেরিকা প্রবাসী সরদার মাশরুক হাসান বুলু। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান তাঁর মেয়ে প্রবাসী ড. তাজিয়া সরদার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর বাবা বুলুর সঙ্গে তাঁর বড় ভাই এসকে বাকার ও ছোট ভাই বাশারুজ্জামানের জমি নিয়ে বিবাদ রয়েছে। তাঁর বাবাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টায় বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সব কয়টি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এসকে বাকার বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর সম্পত্তি দেখাশোনা করেন হরিদাশ মণ্ডল নামের এক পল্লিচিকিৎসক। তিনি বেনামে তাঁর বাবার (বুলু) বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাঁর বাবার কাছে অবৈধ অস্ত্র আছে- এমন অভিযোগে গত ৩০ মে র‌্যাব ডুমুরিয়ার তাঁদের বাড়িতে অভিযানে যায়। কিন্তু সেখানে অস্ত্র না পেয়ে ফিরে আসে। এরপর হরিদাশ মণ্ডল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ দেন, তাঁর বাবা নিকটবর্তী একটি গ্রামের কোনো একটি হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অর্থ জোগান দিয়েছেন। গত ৩০ জুন পুলিশ দুই পক্ষকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়। তাঁর বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিত হন, কিন্তু অভিযোগকারীরা সেখানে যাননি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, এসব কারণে তিনি আদালতে মামলা করলে সাক্ষীদের বাড়িতে বোমাসদৃশ বস্তু রেখে ভয়ভীতি দেখানোসহ তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে হরিদাশ মণ্ডল বলেন, তিনি কেন তাঁদের হয়রানি করতে যাবেন? তাঁরা উল্টো তাঁকে হয়রানি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বিস্ফোরক মামলা করেছেন। তাঁকে জেল খাটিয়েছেন। 

তিনি বলেন, এসকে বাকার বিদেশে গেলে তাঁর পক্ষে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠানগুলো তিনি দেখাশোনা করেন। এজন্য তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করছেন।